নড়াইলে ডেঙ্গুতে পান ব্যবসায়ীর মৃত্যু

ফাইল ছবি

ডেঙ্গু জ্বরে নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ বাজারের এক পান ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম হিরক মালাকার (৪০)। তিনি সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের বাঁশভিটা গ্রামের মঙ্গল চন্দ্র মালাকারের ছেলে।

শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হিরক মারা যান।

জানা গেছে, গত কয়েকদিনে নড়াইল শহর সংলগ্ন বাঁশভিটা গ্রামের ৬ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া বর্তমানে নড়াইল ও লোহাগড়া হাসপাতালে ৬ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ মৌসুমে এ পর্যন্ত ৫৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হিরক মালাকার গত শুক্রবার সকালে ডেঙ্গু উপসর্গে সদর হাসপাতালে ভর্তি হোন। পরে ডেঙ্গু শনাক্ত হলে ওই দিনই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়।

হিরক মালাকারের কাকাতো ভাই ও সদরের মুলিয়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর পলাশ মালাকার জানান, শনিবার তার ভাই খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। তাদের গ্রামে ৬ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। এরা সবাই নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ বাজারে ব্যবসা করেন।

নড়াইল সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত জুন থেকে এ পর্যন্ত জেলার ৩ উপজেলায় ৫৮জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে নড়াইল সদর হাসপাতালে ৪ জন ও লোহাগড়া হাসপাতালে ২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ভর্তি হয়েছে ৩০ জন।

রুপগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে প্রতিদিন পাইকারী দোকানগুলো থেকে কমপক্ষে ১ লাখের বেশী প্লাষ্টিক ও কাগজের ওয়ান টাইম চায়ের কাপ বিক্রি হচ্ছে। করোনা প্রাদুর্ভাবে জেলার সর্বত্র চা-এর দোকানগুলোতে চালু হওয়া ওয়ান টাইম কাপ পরিত্যক্ত অবস্থায় যত্রতত্র পড়ে থাকায় এসবের মধ্যে বৃষ্টির পানি ভরে ডেঙ্গু রোগের বাড়তি ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এছাড়া দীর্ঘদিন শহরের ড্রেন পরিস্কার ও মশক নিধনে স্প্রে ছিটানো হয়না। ডেঙ্গু প্রতিরোধে এখনো তেমন কোনো প্রস্তুতি গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে নড়াইল পৌরসভার মেয়র আনজুমান আরা বলেন, মশার লার্ভা ধ্বংসে স্প্রেসহ সচেতনতামূলক প্রচারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে নড়াইলের সিভিল সার্জন ডা. নাসিমা আক্তার বলেন, শুনেছি গত শনিবার একজন ডেঙ্গু জ্বরে মারা গিয়েছে। নড়াইল জেলার বাইরে মারা যাওয়ায় অফিসিয়ালি এ তথ্য এখনো আমরা পাইনি।

এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে রবিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ফকরুল হাসানের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় মশার লার্ভা ধ্বংসের জন্য প্রত্যেক উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ইউনিয়ন পরিষদসহ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাড়ির আঙ্গিনা, রাস্তার পাশের ঝোপ-ঝাড়, জলাশয়, ড্রেন, হাট-বাজার প্রভৃতি স্থানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান সফল করতে প্রচারের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এছাড়া সোমবার সকাল ১০টার সময় মুলিয়া প্রাইমারী ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা করা হবে।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
সুজয় বকসী, নড়াইল