অনাচারে পৌর কাউন্সিলররা পিছিয়ে নেই

যশোরে চাঁদার টাকা না দেয়ায় ব্যক্তিমালিকানাধীন ডোবায় মাটি ভরাট বন্ধ করে দিয়েছে চাঁদাবাজরা। অভিযোগ উঠেছে, যশোর পৌরসভার একজন কাউন্সিলরের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা গিয়ে ভরাট কাজ বন্ধ করে দেয়। ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে ষষ্টিতলা কাঁচাবাজারের পাশে গলির মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে। অনলাইন নিউজ পোর্টাল স্বাধীন আলো খবরটি গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করেছে।

৩৩ শতক ওই জমিটির মালিক মহাসিন ও তার ভাই লিয়াকত। বছর ত্রিশেক আগে এখানে পুকুর ছিলো। আস্তে আস্তে মাটি ভরাট হতে হতে ডোবায় পরিণত হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমা হলেই বোঝা যায় এটা ডোবা। এর চারপাশে বসতবাড়ি। এখানে মশার প্রজনন ক্ষেত্র বা মশার উৎপত্তিস্থল। তাই প্রতিবেশীদের কথা রাখতে ডোবা ভরাট করার সিদ্ধান্ত নেয় মালিকদ্বয়। এজন্য সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবি করে। ১৯ সেপ্টেম্বর শ্রমিকরা মাটি ভরাট করার কাজ করছিলো এ সময় একজন পৌর কাউন্সিলরের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা কাজ বন্ধ করে দেয়।

এবার পৌরসভার কাউন্সিলরের দুর্নীতি ও ক্ষমতা জাহিরের ঘটনা ঘটলো। দুর্নীতি আর দাপটের প্রবাহে যখন সবাই গা ভাসিয়েছে তখন আর কাউন্সিলররা বাদ থাকবে কেন। কাউন্সিলর ও তার বাহিনী যেন এলাকার মূর্তিমান আতঙ্ক। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় তাদের কাজে বাধা প্রদান করা হয়।

পৌরসভার কাউন্সিলররা তাদের এলাকার মানুষের কাছের লোক। তারা মানুষের জীবন-জীবিকা, সুখ-দুঃখ, বিপদ-আপদ, সব কিছু জানেন। আগের আমলে দেখা যেতো সামাজিক সাধারণ জটিলতা, দ্বন্দ্ব-ফ্যাসাদের মীমাংসা বিচারক হিসেবে তারাই মীমাংসা করেন। তাদের মীমাংসাটা নিরপেক্ষ হয়। কিন্তু হাল আমলে এসে যা শুরু হয়েছে সভ্য সমাজের উপযোগী নয়। রক্ষক হয়ে তারা ভক্ষকের মতো কাজ করছেন তারা। কথায় আছে ‘এক জায়গায় বেলা উঠলে সব জায়গায় ওঠে’। যশোর পৌরসভার কাউন্সিলরের নিন্দনীয় কার্যকলাপ যে অন্য জায়গার কাউন্সিলররা করছেন না তা আর ভাবা যাচ্ছে না। তৃণমূল থেকে শীর্ষ পর্যায়ে যে হারে দুর্নীতির প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে তাতে স্থানীয় পর্যায়ের বিচারিক কাঠামো ভেঙে যাবে। মানুষের আর দাঁড়ানো কোনো জয়গা থাকবে না। দুর্নীতি অনাচার অবিচারের বিরুদ্ধে কথা কম বলা হচ্ছে না। কিন্তু থামছে না কেন সে প্রতিযোগিতা। সমাজ বিজ্ঞানীদের এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে এবং তা প্রতিরোধ কঠোর ব্যবস্থা নিতেই হবে। এ সব অপরাধ মহাবিপর্যয়ের অশনি সংকেত।

.

Author
সম্পাদকীয় ডেস্ক