ওরা জাতিকে বিষ খাওয়াচ্ছে

কিছুদিন আগে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে, মিষ্টি ও অন্যান্য খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক হাইড্রোজ ব্যবহার করায় যশোরের শিল্পশহর নওয়াপাড়ায় দুই হোটেলকে জরিমানা করা হয়েছে। একই সময়ে আরো দুইটি প্রতিষ্ঠানকে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনে জরিমানা করা হয়।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের যশোর জেলা কার্যালয় অভিযান চালিয়ে জরিমানা করে। চারটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

বিভিন্ন স্থানে ফরমালিনযুক্ত মাছ ও ফল বিক্রি হচ্ছে। সততার মাধ্যমে ব্যবসা করার বিষয়টি এক শ্রেণির ব্যবসায়ী তোয়াক্কা না করে মানুষকে বিষ ভক্ষণ করাতেও দ্বিধাবোধ করছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঝে মাঝে এর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছেন এবং এসব ফরমালিনযুক্ত মাছ ও ফল ধ্বংস ও জরিমানা করছেন। কিন্তু কিছুতেই থামছে না। তারা কাজটি করেই যাচ্ছে।

নওয়াপাড়ার বিসমিল্লাহ হোটেল মিষ্টি ও অন্যান্য খাবারে ক্ষতিকর রাসায়নিক হাইড্রোজ ব্যবহার, বাসী-পুরানো মুরগির গ্রিল, ছানা ও খামি কাঁচা মাছ-মাংসের সাথে সংরক্ষণ করায় ১৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই কারণে পার্বণ হোটেল থেকেও ১৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একই সময়ে বাসী-পুরনো রান্না করা মাছ, মাংস, বিরিয়ানি, পিজ্জা, মুরগির গ্রিল ছানা ও খামি কাঁচা মাছ-মাংসের সাথে সংরক্ষণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বেকিং পাউডার ব্যবহার করায় সাতক্ষীরা প্লাস রেস্টুরেন্টকে ১৮ হাজার ও প্যারাডাইস হোটেল কর্তৃপক্ষকে চার হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।

শুনলে অবাক হতে হয় পৃথিবীর অনেক দেশ আছে যেখানে দোকানে দোকানে খাদ্য পণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্য নিজেদের উদ্যোগে ফেরৎ নিয়ে ধ্বংস করে ফেলে। মধ্যপ্রচ্যেও দেশগুলোতে মানুষের সেবায় সেখানকার মানুষ এমনই নিবেদিত যে টাটকা খাদ্য মানুষের কাছে পৌছাতে পারলে তারা নিজেদেরকে সৌভাগ্যবান মনে করেন। আর আমাদের দেশে তার চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

খাওয়ার অনুপযোগী যেসব খাদ্য মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছে তা অকল্পনীয়। বাজারে আজকাল নাকি মাছসহ কোনো খাদ্যে মাছি বসে না। এতে স্বাভাবিকভাবে ধারণা সৃষ্টি হয় তাহলে পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে বাজারঘাট এগিয়ে গেছে। কিন্তু তা নয়, রহস্য অন্য জায়গায়। মূলত বর্তমানে বিভিন্ন জিনিসে যেভাবে ফরমালিন ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে মাছি বাজার ছাড়া হয়ে গেছে। মাছির উপদ্রুবমুক্ত সেই মাছ আমরা টাটকা বলে কিনে খাচ্ছি। এতে মানুষকে জেনে শুনে ওই বিষ খেতে হচ্ছে।

যুবকদের কর্মসংস্থানের নামে আজ গ্রামে গ্রামে যত্রতত্র যেভাবে পোল্ট্রি ফার্ম করা হচ্ছে তাতে গ্রামে বসবাস করার পরিবেশ থাকছে না। পোল্ট্রি ফার্মের আশপাশ শতভাগ বিষিয়ে উঠেছে। এগুলো নিয়ন্ত্রণের কেউ নেই। অথচ পোল্ট্রি ফার্ম করারও একটা নীতিমালা আছে। মানুষের স্বস্তিতে বসবাসের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এদিকটার প্রতি অবহেলা করা সমর্থনযোগ্য নয়।

স্বাআলো/এস

.