চাহিদামত টাকা না দিলে এমসি দেন না যশোর জেনারেল হাসপাতালের ক্লার্ক!

যশোর জেনারেল হাসপাতালের ক্লার্ক আসলামের বিরুদ্ধে এমসি (মেডিকেল সার্টিফিকেট) বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

খোদ কোতোয়ালী ও ঝিকরগাছা থানার বিভিন্ন পুলিশ কর্মকর্তারাও এই অভিযোগ করছেন।

অভিযোগ উঠেছে, আসলামের চাহিদামত টাকা না দেয়ায় শ’শ’ মামলার এমসি পাচ্ছেন না পুলিশ কর্মকর্তারা। ফলে, আদালত অনেক মামলার নিষ্পত্তি করতে পারছেন না।

যশোর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মনিরুজ্জামান বলেন, যশোর জেনারেল হাসপাতালের এমসি (মেডিকেল সার্টিফিকেট) নিয়ে খুবই বিড়ম্বনায় আছি।

থানার অর্ধ ডজন এসআই অভিযোগ করে জানান, যশোর জেনারেল হাসপাতালের ক্লার্ক আসলামের অর্থবাণিজ্যের কারণে পুলিশ কর্মকর্তারা বেশ ঝামেলায় পড়েছেন। প্রতিটি মামলার এমসি নিতে সর্বনিম্ন পাচশ’ টাকা থেকে শুরু করে আসলামের চাহিদামত টাকা দিতে হয়। টাকা দেয়ার পরেও কোনো কোনো মামলায় মাসের পর মাস তার পেছনে ঘুরতে হয়। আসলামের অর্থবাণিজ্য এবং খামখেয়ালির কারণে আদালতে মামলার জট পড়ে গেছে।

ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন ভক্ত স্বাধীন আলোকে বলেন, হাসপাতালের এমসির কারণে পুলিশ অফিসাররা ঝামেলা পোহাচ্ছেন।

জানা গেছে, উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপের মুখে এসআইদের মামলার সিএস (চূড়ান্ত রিপোর্ট) কেটে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিএস আদালতে জমা দিতে পারছেন না এমসির কারণে।

আরো জানা গেছে, হাসপাতালের ক্লার্কের চেয়েও ভয়ঙ্কর এমসি ডিসপাসে থাকা মোস্তাকুল এমসির জন্য কাগজ জমা দিতে দুইশ’ এবং এমসি হাতে নিতে দুইশ। মোস্তাকুলকে সার্টিফিকেট প্রতি প্রত্যেক পুলিশ কর্মকর্তাকে গুনতে হয়।

ঝিকরগাছা উপজেলার ফতেমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, স্বামীর অমানুষিক নির্যাতনে আমার ডান পা ভেঙ্গে যায়। হাসপাতালে অনেক দিন ভর্তিও ছিলাম। মামলায় এমসি লাগবে আমার। যোগাযোগ করলে দালালের মাধ্যমে ক্লার্ক আসলাম ও মোস্তাকুল মিলে ৮ হাজার টাকা নেয় আমার কাছ থেকে। দুই মাস ঘোরায়ও আমার এমসি দেয়নি। পরে একজন সাংবাদিক ভাইয়ের সহযোগিতায় টাকা ফেরত দেয় ও এমসিও দুই দিনের মধ্যে দেয়।

অভিযোগের বিষয়ে ক্লার্ক আসলাম বলেন, আমি সহযোগিতা করি কেবল। ডাক্তাররা এমসি দিলেই আমি তা দিয়ে দিই। আমাকে কেউ কিছু দিলে নিই না দিলে নাই।

এ বিষয়ে হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার আখতারুজ্জামান স্বাধীন আলোকে বলেন, উপযুক্ত প্রমাণ পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

এ ব্যপারে প্রতিষ্টানটি আরএমও ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, এমসি দিতে টাকা নেয়ার কোনো যৌাক্তকতা আছে বলে মনে করি না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন বুঝতে পারবেন বাস্তবতা।

উল্লেখ্য, ক্লার্ক আসলামের সার্টিফিকেট বাণিজ্য নিয়ে এর আগেও নিউজ হয়েছে। ২০১৯ সালে ১ সেপ্টেম্বর ওই সময় হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা সুপার ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু আসলামকে কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেন। পরে সু-চতুর আসলাম আবার নিজের জায়গায় যোগদান করে পূর্বের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর