যশোরে স্কুল এমপিওর নামে ১৫ লাখ টাকা আত্নসাৎ: শিক্ষিকা ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

স্কুল এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) করে দেয়ার কথা বলে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে যশোরের এমএসটিপি কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষিকা শাহরিনা আক্তার সুমি ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। রবিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বিআরবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজাপুর গ্রামের শহীদুল ইসলাম এই মামলা করেছেন।

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন- যশোর শহরের চাঁচড়া রায়পাড়া প্রাইমারি স্কুলের পাশের বাসিন্দা রেন্ট-এ কার ব্যবসায়ী তারাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী এমএসটিপি কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষিকা শাহরিনা আক্তার সুমি।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষকতা সূত্রে বাদী শহীদুল ইসলামের সাথে শাহরিনা আক্তার সুমির পরিচয় হয়। তাছাড়া শহীদুল ইসলাম যশোর উপশহর প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থার সহ-সভাপতি ছিলেন। ওই সময় সুমির স্বামী তারাজুল ইসলাম ওই সংস্থার ক্যাশিয়ার ছিলেন ও রেন্ট-এ কারের ব্যবসা করতেন। কাছকাছি থাকার কারণে তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক পর্যায় তাদের মধ্যে ধর্ম আত্মীয়তা হয় এবং উভয়ে উভয়ের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। বাদীর স্কুলটি এমপিওভুক্ত ছিলো না। এই সুযোগে বাদীর স্কুলটি এমপিওভুক্ত করে দিতে পারবে বলে জানায় তারাজুল ইসলাম। আর ওই কাজ করতে তাকে দিতে হবে ১৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। তারাজুলের কথায় বাদী শহীদুল ইসলাম ২০১৯ সালে ওই টাকা দেন। কথা থাকে অল্প দিনের মধ্যেই স্কুলটি এমপিওভুক্ত হয়ে যাবে। তিন বছর অতিবাহিত করার পরও এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় উভয়ের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়।

যে কারণে তারাজুল ইসলাম ২০২১ সালে ওই টাকার বিপরীতে তিন মাসের মধ্যে পরিশোধের শর্তে স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্র করেন। তবে চুক্তিপত্রে স্কুল এমপিও করার কথা উল্লেখ না করে শুধুমাত্র টাকাগুলো ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে ধার নেয়ার কথা বলা হয়। নির্ধারিত সময় পার হলেও আসামিরা টাকা পরিশোধ না করে ঘুরাতে থাকেন।

ওই চুক্তি অনুযায়ি টাকা না দেয়ায় ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর আবারো তাদের শালিশে ডাকা হলে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা পরিশোধ করে ৭৫ হাজার টাকা ছেড়ে দিয়ে বাকি ৯ লাখ টাকা দুই কিস্তিতে ২৫ অক্টোবর ও চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি পরিশোধ করবেন বলে আরো একটি চুক্তিনামা করে দেন।

কিন্তু চাকরির অজুহাত দেখিয়ে অন্যরা সাক্ষী হিসেবে সাক্ষর করলেও শাহরীনা আক্তার সুমি ওই চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেননি।

দীর্ঘদিনে আর কোনো টাকা পরিশোধ না করায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর আসামিদের প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থায় পেয়ে পাওনা টাকা চাইলে তা দিতে অস্বীকার করেন। টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তিনি আদালতে এই মামলা করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন।

স্বাআলো/এস

.

Author
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর