শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চোখ ওঠা ছড়াচ্ছে দ্রুত, পাঠদান ব্যাহত

বাড়ছে চোখ ওঠা রোগ। অতি ছোঁয়াচে এ রোগ সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে শিক্ষার্থীদের জন্য। বিশেষত স্কুলপড়ুয়া ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জন্য। এরই মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চোখ উঠা রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ক্লাসের একজনের চোখ উঠলে তা দ্রুত অন্যদের মাঝে ছড়াচ্ছে। এ অবস্থায় কিছু স্কুল সাময়িক বন্ধও রাখা হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংক্রমণ কমাতেই স্কুল বন্ধ বা আক্রান্ত শিক্ষার্থীকে ছুটি দিয়ে বাসায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হচ্ছে।

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা অবশ্য অভয় দিয়ে বলছেন, চোখ উঠলে চিন্তার কিছু নেই। এ রোগে আক্রান্ত হলে শিশুরা পাঁচদিন আর প্রাপ্তবয়স্করা সাত বা সর্বোচ্চ ১০ দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেন। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আইসোলেশনে (আলাদা) থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

কামিল মাদরাসায় গত ৬ দিন আগে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর চোখ উঠে। এরপর ক্লাসে আরো কয়েকজন আক্রান্ত হয়। পরে অনেক শিক্ষার্থীর মাঝে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় সাতদিনের জন্য মাদরাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বলেন, একজন শিক্ষার্থীর চোখ ওঠার পর দ্রুত তা ১৫-২০ জনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এটি যেনো ভয়াবহভাবে না ছড়ায় সেজন্য মাদরাসা গত বৃহস্পতিবার থেকে আগামী শনিবার পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বাসায় থেকে পড়ালেখা করতে বলা হয়েছে।

এমন অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হঠাৎ চোখ ওঠা শুরু হয়েছে। একজন আক্রান্ত হলে দ্রুত সেটি মহামারি আকারে অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে।

আক্রান্ত রোগীদের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, চোখ ওঠলে কখনো কখনো এক চোখে অথবা দুই চোখেই জ্বালা করে এবং লাল হয়ে চোখ ফুলে যায়। চোখ জ্বলা, চুলকানি, খচখচে ভাব থাকা, চোখ থেকে পানি পড়া, চোখে বারবার সাদা ময়লা আসা, কিছু ক্ষেত্রে তীব্র ব্যথা এ রোগের অন্যতম প্রধান লক্ষণ। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এটিকে কনজাংটিভাইটিস বা রেড/পিংক আই বলা হয়। এ সমস্যাটি চোখ ওঠা নামেই বেশি পরিচিত। কনজাংটিভা নামে চোখের পর্দায় প্রদাহ হলে তাকে চোখ ওঠা রোগ বলা হয়। রোগটি অতি ছোঁয়াচে হওয়ায় দ্রুত ছড়াতে সক্ষম।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের অধ্যাপক ডা. জাফর খালেদ রবিবার বিকেলে বলেন, শিশুদের চোখ ওঠার হার বেড়ে গেছে। এটি একটি ভাইরাস, যা করোনার মতো ছড়াচ্ছে। একজন আক্রান্ত হলে সংস্পর্শে থাকা অন্যরাও আক্রান্ত হচ্ছে। এর প্রকোপ তিন থেকে ছয় মাস থাকতে পারে। তবে এর সংক্রমণ সক্ষমতা দুই-তিন মাস স্থায়ী হবে। এসময়ের মধ্যে যারা কন্ট্রাকে আসবে তারা আক্রান্ত হবে। যাদের ইমিউনিটি (রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা) কম তারাই বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে। তবে চোখ ওঠা রোগের একটি ভালো দিক হচ্ছে, অল্প বয়সীরা দ্রুত সুস্থ হয়ে যায়।

স্বাআলো/এস

.

Author
ঢাকা অফিস