অর্থ বাণিজ্যে ব্যস্ত শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর হতে পারেন না

স্কুল এমপিও করে দেয়ার কথা বলে ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে যশোরের এমএসটিপি কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষিকা শাহরিনা আক্তার সুমি ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের বিআরবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম এই মামলা করেছেন।

সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

দীর্ঘদিনে আর কোনো টাকা পরিশোধ না করায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর আসামিদের প্রত্যাশা সমাজ কল্যাণ সংস্থায় পেয়ে পাওনা টাকা চাইলে তা দিতে অস্বীকার করেন। টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তিনি আদালতে এই মামলা করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন।

শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর। সেই শিক্ষকরা যদি অর্থ বাণিজ্যে নেমে পড়েন তাহলে তাদের হাত দিয়ে মানুষ গড়া কোনো ক্রমেই সম্ভব না। যারা টাকাকে বড় মনে করেন তাদের এ পেশায় আসা উচিত নয়। কারণ আর দশটি পেশার মতো শিক্ষকতার পেশা নয়। শিক্ষকতাকে যারা চাকরি হিসেবে নেবেন তাদের
মাথায় টাকা ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। আর এসব শিক্ষকরাই এমপিও, নিয়োগ বাণিজ্য, পরীক্ষায় অতিরিক্ত টাকা
আদায় এসব অনৈতিক পথে নামবেন এটাই স্বাভাবিক।

অভিযুক্তের হাতে যিনি টাকা দিয়েছেন তিনি ও তার সহকর্মীরা যে কতো কষ্টে আছেন তা অভিযুক্তকে অনুধাবন করা উচিত। নন এমপিও মানে বেগার খাটা। চাকরি বিধি অনুযায়ী সব মেনে চলতে হয়, কিন্তু বেতনের বেলায় তাদের নাম নেই।

ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষকসহ অন্য শিক্ষকরা বেতন না পেয়েও হারাহারি কওে টাকা তুলে ১৫ লাখ লাখ টাকা তুলে দিয়েছেন। এই টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে কেউ এনজিওর কিস্তির লোন নিয়েছেন, কেউ গাছপালা, গরু-বাছুর, ঘটি-বাটি বেঁচেছেন। এ কথাটি অভিযুক্ত হৃদয় দিয়ে অনুভব করেননি।

শিক্ষকরা সাধারণ মানুষের কাছের মানুষ। তাদের সুখ দুঃখ সবই বোঝেন। কিন্তু তারপরও কিভাবে ১৫ লাখ টাকার অর্থ বাণিজ্য করলেন তা ভাবতে অবাক লাগে। পেশাগত আপনজনের কষ্টে যার মন কাঁদে না তিনি মানুষ প্রজাতির কেউ হতে পারেন না। আর এমন শ্রেণির মানুষের হাত দিয়ে আদর্শ মানুষ বের হওয়া সম্ভব না।

স্বাআলো/এস

.