‘এমপি-মন্ত্রী আমরা বানাইসি, দলের কথা বললে পিটুনি খাবেন’, হুমকি পুলিশ কর্মকর্তার

এমপি-মন্ত্রী বানানোর ঘোষণা দেয়া লালমনিরহাট সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে জেলা পুলিশ।

মঙ্গলবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে যুবলীগ নেতা ও আলোচিত সেই মামলার বাদী তদন্ত কর্মকর্তাকে লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন।

এর আগে সোমবার (৩ অক্টোবর) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামানকে দুইদিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়ে চিঠি পাঠান লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম।

সম্প্রতি এসআই মোস্তাফিজুর রহমান আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা নুরবক্ত মিয়াকে হুমকি দিয়ে বলেন, আমরাই (পুলিশ) এমপি-মন্ত্রী বানিয়েছি। দলের কথা বললে পিটুনিও দেয়া হবে।

শুধু তাই নয়, এসআই মোস্তাফিজার রহমানের দায়িত্বে থাকা একটি মামলার ভুক্তভোগীর যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। তার এমন অডিও বার্তার সূত্র ধরে সম্প্রতি এমপি-মন্ত্রী আমরা বানাইসি, পুলিশ-যুবলীগ নেতার ফোনালাপ ভাইরাল শিরোনামে একটি সংবাদ বিভিন্ন সংবাদ মাধ‌্যমে প্রকাশিত হয়। যা মুহূর্তে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়ে। বিষয়টি পুলিশ বিভাগের নজরে পড়লে জেলা পুলিশ সুপার ঘটনাটি তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামানকে তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী দুইদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্তের নির্দেশ পেয়ে মামলার বাদী ও সেই যুবলীগ নেতার লিখিত বক্তব্য নেন তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল)। এদিকে এ ঘটনাটি তদন্তে নেমেছে পুলিশ বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা টিমও।

প্রসঙ্গত, গত জুনে জেলার আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়ন যুবলীগের নুরবক্ত মিয়া নামে এক নেতার এক আত্মীয়ের মেয়ে (কিশোরী) অপহৃত হয়। এ ঘটনায় লালমনিরহাট সদর থানায় গত ২৬ জুন একটি মামলা দায়ের করে কিশোরীর পরিবার। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান থানার এসআই মোস্তাফিজার রহমান। তদন্ত চলাকালীন অপহৃত কিশোরী ও অপহরণকারী যুবকের সন্ধান মেলে রাজধানীর খিলগাঁও থানা এলাকায়। সংশ্লিষ্ট থানায় জানিয়ে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন মোস্তাফিজার রহমান। উদ্ধার করেন কিশোরীকে, গ্রেফতার হন অপহরণকারী।

পরে কোনো নারী পুলিশ সদস্য বা পরিবারের কাউকে না নিয়েই কিশোরী ও অপহরণকারীকে নিয়ে লালমনিরহাটে রওনা দেন এসআই মোস্তাফিজার। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সঙ্গীয় এক পুরুষ কনস্টেবল।

ঘটনাটি এখানেই শেষ হয়নি। ঢাকা আসা-যাওয়ার জন্য কিশোরীর পরিবারের কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন লালমনিরহাট সদর থানার এসআই। টাকা না দিলে তাকে যশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর হুমকিও দেন তিনি। উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগীর বাবা-মা তাকে ১০ হাজার টাকা দেন। এরপর কিশোরীকে আদালতে তোলেন মোস্তাফিজার রহমান।

জানা গেছে, এসআই মোস্তাফিজারের দাবিকৃত টাকা তাকে পাঠান পলাশী ইউনিয়ন যুবলীগের নুরবক্ত মিয়া নামে ওই নেতা। তিনি কিশোরীর সম্পর্কে মামা। পরে নুরবক্ত এসআই মোস্তাফিজারকে বিষয়টি নিয়ে ফোন দেন। দুইজনের কথোপকথনের একপর্যায়ে দলীয় পরিচয় দেন নুরবক্ত। এ সময় এসআই তাকে বলেন, যে দল করেন তার এমপি-মন্ত্রী আমরা বানাইসি। এবার হইয়েন, কত বড় নেতা হইছেন এবার হইয়েন। দলের কথা বললে পিটুনি খাবেন।

কিশোরীর অভিযোগ, এসআই মোস্তাফিজারের মুখের ভাষাও জঘন্য। কিশোরী বলেছে, এসআই তাকে অপ্রকাশযোগ্য গালাগাল দিয়েছেন।

লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) মারুফা জামান বলেন, এসআই মোস্তাফিজুরের ঘটনা দুইদিনের মধ্যে তদন্তের নির্দেশ পেয়েছি। তদন্ত চলমান রয়েছে। নির্ধারীত সময়ে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
জেলা প্রতিনিধি, লালমনিরহাট