করোনার হার বাড়ছে: সতর্ক হতে হবে

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর যশোর, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, কমিুল্লা, ময়মনসিংহ, পাবনা ও ফরিদপুরে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার ২০ শতাংশেরও বেশি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। ৬ অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর ৬ দিনে গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া ও চাঁদপুরে করোনা সংক্রমণের হার ছিলো ১০ থেকে ১৯ শতাংশ। এতে আরো জানানো হয়, ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৩২ হাজার ২৩ জনের। এতে করোনা শনাক্ত হয়েছে চার হাজার ৫০০ জনের। এ সময় মারা গেছেন ১২ জন। এ নিয়ে সারাদেশে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে এক কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫৭টি। সর্বমোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ২০ লাখ ২৬ হাজার ৯০৮ জনের। মোট মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৩৭১ জনের।

সারাদেশে আবারো করোনাভাইরাসে আক্রান্তর সংখ্যা বাড়ছে। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে সকল ক্ষেত্রে শতভাগ সঠিকভাবে মাস্ক পরা, বেসরকারি পর্যায়ে করোনা পরীক্ষার খরচ কমানোসহ ৫ দফা সুপারিশ করেছে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

সকল ক্ষেত্রে শতভাগ সঠিকভাবে মাস্ক পরা ও হাত ধোয়া বা স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করাসহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের জন্য জনসাধারণকে উৎসাহিত করা।

প্রথম, দ্বিতীয় এবং বুস্টার ডোজের কোভিড ভ্যাকসিন টিকা যারা নেননি, তাদের টিকা গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করা। কোন স্থানে সভা করা থেকে বিরত থাকা ও দাফতরিক সভাগুলো যথাসম্ভব ভার্চুয়ালি সম্পন্ন করা। অপরিহার্য সামাজিক অনুষ্ঠান বা সভাগুলোতে মাস্ক পরার সুপারিশ। বেসরকারি পর্যায়ে কোভিড-১৯ পরীক্ষার ব্যয় কমানোর পদক্ষেপে সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানানো হয়। প্রচলিত কথায় আছে ‘সোজা আঙুলে ঘি ওঠে না’। জাতি হিসেবে আমাদের চরিত্রটাই যেন তেমন। নিজের ভালো পাগলে বুঝলেও এ জাতি বুঝতে চায় না। দেশজুড়ে করোনা নতুন করে কাপন সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় যখন কেউ করোনা প্রতিরোধ বিধি-নিষেধ মানছে না তখন স্বাস্থ্য অধিদফতর মাস্ক ব্যবহারসহ কিছু নিয়ম-কানন পলনের নির্দেশনা দিয়েছে। আমরা এ নির্দেশনাকে স্বাগত জানাই।

করেনাভাইরাস যে মহামারী তাতে আর কোন সন্দেহ নেই কারো। এর ভয়াবহতা নতুন করে ব্যাখ্যা করারও প্রয়োজন নেই। দীর্ঘ সময় ধরে সারা বিশ্ব চষে বেড়াচ্ছে এই ভাইরাস। হালে আগ্রাসন কিছুটা কম হলেও নতুন করে উঁকি দিচ্ছে। তাই বিশেষজ্ঞরা আগেভাগে সতর্ক করছেন। যদি সবাই নির্দেশনা অনুসরণ করে তাহলে অটোমেটেকলি এটা থেকে রিলিফ পাওয়া যাবে। ওমিক্রন প্রতিরোধের করণীয় বিষয়ে সর্বপ্রথম গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং তাদেরকে করণীয় বিষয়ের সাথে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাআলো/এসএস

.