বঙ্গবন্ধুর ছবি বাদ দিয়ে ম্যুরালে বসলো এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের ছবি!

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় সরকারি টাকায় নির্মিত একটি ম্যুরালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি বাদ দিয়ে বসানো হয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও তার আপন ভাই আরেকটি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রুকনের ছবি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) বিকেল থেকে এই ম্যুরালের ছবি ভাইরাল হয়। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা৷

স্থানীয় সরকার প্রকৌশলের তথ্যনুযায়ী, গত ২৩ জুন মেসার্স রানা ট্রেডার্সকে ৯ লাখ ৯৯ হাজার ৭২৪ টাকা চুক্তিমূল্যে ম্যুরালটি বানাতে কার্যাদেশ দেয়া হয়। ৩০ দিনের মধ্যে মধ্যনগর ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে ম্যুরাল নির্মাণ কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।

ম্যুরালের ডিজাইনে একপাশে বঙ্গবন্ধু ও আরেকপাশে কেবল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি থাকার কথা। তবে সেখানে কোনো অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন ও তার ভাই ধর্মপাশা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন রুকনের ছবি যুক্ত করা হয়েছে।

মধ্যনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পরিতোষ সরকার বলেন, এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছবি সম্বলিত ম্যুরাল হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু এখন দেখি এখানে এমপি আর তার ভাই চেয়ারম্যানের ছবি। এটা শিষ্টাচারবিরোধী কাজ, বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে দিলেন অথচ তারা সবাই নৌকা মার্কায় ভোট পেয়েই জয়ী হয়েছিলেন। আমি নিজে ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলেছি।

তিনিও বলেছেন, এখানে এই ডিজাইন ছিলো না, তারা নিজ ইচ্ছায় এমন পরিবর্তন করেছেন।

সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খায়রুল কবির রুমেন বলেন, বিষয়টি আমার নজরেও এসেছে। একজন সরকার দলীয় এমপি ও চেয়ারম্যান এমন কাজ করতে পারেন না। বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে এমপি সাহেবও কীভাবে নিজের ছবি বসালেন সেটা আমার বুঝে আসে না। এ কারণে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হওয়া উচিত এমপি সাহেব ও তার ভাইয়ের।

ধর্মপাশা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, যেহেতু মধ্যনগর নতুন উপজেলা, তবে এখনো প্রশাসনিক দাফতরিক সব কাজ হয় ধর্মপাশা থেকেই। মধ্যনগরে যে ম্যুরাল তৈরি হচ্ছে, সেখানে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি থাকার কথা ছিলো। কিন্তু এভাবে সরকারি টাকায় নির্মিত ডিজাইনের পরিবর্তন করা যায় না। এটি এডিপির বরাদ্দে প্রায় ১০ লাখ টাকায় নির্মাণ করা হয়েছে। এই ডিজাইন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের করা। এটি পরিবর্তন করতে হলে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে ডিজাইন পরিবর্তনের অনুমোদনের জন্য লিখতে হবে। ওখান থেকে অনুমতি পাওয়া গেলেই কেবল ডিজাইন পরিবর্তন করা যায়।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, এটি জানার পর আমরা কাজ বন্ধ রেখেছি। এটা হতে পারে না। সরকারি টাকায় এভাবে ডিজাইন পরিবর্তনের কোনো অনুমতি বা কিছুই আমার নলেজে নেই।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
সিলেট ব্যুরো