বাগেরহাটে নদী শাসনের দাবিতে মানববন্ধন

১৫ নভেম্বর প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় সিডর দিবস। ২০০৭ সালের ১৪ নভেম্বর দিনগত রাতে সিডরের আঘাতে সব থেকে বেশী জান-মালের ক্ষতি হয় বাগেরহাটের সুন্দরবন উপকুলীয় শরণখোলা উপজেলা বাসীর। সেই থেকে শরণখোলাবাসী ১৫ নভেম্বর সিডর দিবস পালন করে আসছে। এবার সিডর দিবসে উপজেলার বলেশ্বর নদের ভাঙ্গন প্রতিরোধে নদী শাসনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সিডরে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শরণখোলা উপজেলার সাউথখালীর মানুষ। নদী শাসন আন্দোলন কমিটির ব্যনারে সাউথখালীর গাবতলা বেড়িবাঁধের উপর দাড়িয়ে শতশত মানুষ এ মানববন্ধনে অংশ নেয়।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান পারভেজ, সংবাদকর্মী নজরুল ইসলাম আকন, যুবলীগ নেতা ইমরান হোসেন রাজিব, পলাশ মাহমুদ, আলামিন খান, হালিম শাহ, প্রমুখ।

পরে সিডরে নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ংকরী ‍ঘূর্ণিঝড় সিডরে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয় শরণখোলার সাউথখালী ইউনিয়ন। বলেশ্বর নদের পাড়ে অবস্থ নের কারনে শুধু সাউথখালীতে সাত শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। এছাড়া শতভাগ ঘরবাড়ি বিলিন হয়। ভাঙ্গা বেড়িবাঁধের কারণে ওই ইউনিয়নটিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ছিলো সবচেয়ে বেশি। এ কারণে বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে সাউথখালী নামটি সারা বিশ্বে পরিচিতি পেয়ে যায়। এ সময় সিডর পরবর্তী শরণখোলাবাসীর দাবি ছিলো ‘ত্রান চাই না মোরা টেকসই বেড়িবাঁধ চাই’। কিন্তু সিডরের ১৫ বছর পর সরকার ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করলেও নদী শাসন না করায় সে বাঁধ এখন ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

সাউথখালীর বীরমুক্তিযোদ্ধা মোকলেসুর রহমান, ইউপি সদস্য জাকির হোসেন, রিয়াদুল পঞ্চায়েত বলেন- এলাকাবাসীর দাবীতে সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সাত বছরেও কাজ শেষ করতে পারেনি। এছাড়া বগী, গাবতলা, রায়েন্দা গ্রাম, আমতলী পয়েন্টে নদী শাসন না করলে নির্মিত বেড়িবাঁধ আবার ভেঙ্গে যাবে। ইতিমধ্যে ওইসব স্থানের বাঁধে বড় বড় ফাঁটল দেখা দেয়ায় মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তাই নদী শাসন না হলে কোনভাবেই এই বেড়িবাঁধ টিকবে না। এছাড়া পাউবোর বিশেজ্ঞ দল পরিদর্শন করে নদী শাসনের আশ্বাস দিলেও এর কোন বাস্তবায়ন না দেখে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

স্বাআলো/এসএস

.

Author
আজাদুল হক, বাগেরহাট
জেলা প্রতিনিধি