৪ দশকের ভবদহ সমস্যা সমাধানে মনোযোগী হতে হবে

৪০ বছর আগে যে শিশুটি জন্মগ্রহণ করেছিল শৈশব, কৈশোর, যৌবন, তারুণ্য সব পেরিয়ে আজ জীবনের সাজবেলার দিকে সেই শিশুটির গতি। ভবদহ এলাকার মানুষ ৪০ বছর ধরে একটি কষ্টের জালে আটকে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে। ৪০ বছর আগে ওই যার জন্ম তার জীবনের পুরোটাই এই কষ্টের জালে আষ্টেপিষ্টে জড়িত। আর তাই দুঃখের সারি, বেদনার আহাজারী সব সময় অনুরণিত হচ্ছে ভবদহের পানি দুর্যোগ কবলিত লাখো মানুষের কন্ঠে। সুদীর্ঘকালের টিআরএম’র (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) দাবি দুইবছর আগে বাতিল হওয়ায় বিদ্রোহের বহ্ণিশিখা দাও দাও করে জ্বলে ওঠে। যা আজো থামেনি। ধিকিধিকি জ্বলছে। ভবদহ জলাবদ্ধতা নিরসন আন্দোলন কমিটি ও কেন্দ্রীয় পানি কমিটি আন্দোলন করেই যাচ্ছে। গত ১৫ নভেম্বর আবার যশোরের ভবদহ সমস্যা সমাধানে ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি। ওই দিন যশোর কালেক্টরেট চত্বরে মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে ভবদহ সমস্যা সমাধানে যে ছয়দফা দাবি জানানো হয়েছে। সেগুলো হলো, ক্রাস প্রোগ্রামে মাঘি পূর্ণিমার আগে বিল কপালিয়ায় টিআরএম চালু ও ডেল্টা প্লান-২১০০ এর সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে; ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার সেচ প্রকল্প ও প্রস্তাবিত প্রায় ৪৫ কোটি টাকার ‘ভবদহ ও তৎসংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ’ অবিবেচনাপ্রসূত সেচ প্রকল্প বাতিল করতে হবে; আমডাঙ্গা খাল সংস্কার কাজ দ্রুত করতে হবে। প্রি-ওয়ার্ক ও পোস্ট ওয়ার্ক জনসমক্ষে টাঙিয়ে দিতে হবে। কাজের স্ব”ছতা নিরূপণে আন্দোলনকারী সংগঠন ও জনপ্রতিনিধি ও সেনাবাহিনীকে সংশ্লিষ্ট করে তদারকি কমিটি গঠন করতে হবে; জনপদের ফসল, বাড়িঘরসহ অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, কৃষি ঋণ মওকুফ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে ; সরকারকে মিথ্যা তথ্য প্রদান, নদী হত্যা, জনপদের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা, ফসল, বসতবাড়ি ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতির সাথে জড়িত পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাশিÍমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; এবং ভবদহ সমস্যা স্থায়ী সমাধানে উজানে মাথাভাঙ্গা নদীর সাথে ভৈরব নদের সংযোগের প্রস্তাবিত প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

‘বকো-ঝকো যাই কর কান করেছি কালা, মার-ধর যাই কর পিঠে বেধেছি ছালা’ অথবা ‘বকো ঝকো যাই কর কানে দিয়েছি তুলো, মার-ধর যাই কর, পিঠে বেধেছি কুলো।’ টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) বাস্তবায়নের এ প্রবাদ কথাটি অবশ্যই বলা যায়। ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটি কতবার যে এই কথাটি বলে আসছে তার হিসেব দেয়া মুশকিল। তবুও ধন্যবাদ জানাতে হয় সংগ্রাম কমিটিকে। এত বলাবলির পরও তাদের কোনো ক্লান্তি নেই। আমরা মনে করি ক্লান্তির চেয়ে জনস্বার্থ তাদের কাছে বড়। আর তাই তারা আবারো ভবদহের জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে টিআরএম চালুর দাবি তুলেছে।

.