আমনের বাম্পার ফলন, স্বপ্ন বুনছেন কৃষকরা

পটুয়াখালীর দুমকিতে ফসলের মাঠগুলো সোনালী ও সবুজের সমারোহ অপরূপ সৌন্দর্য বিরাজমান। যতদূর চোখ যায় কেবলই নয়নাভিরাম সবুজের সমারোহ। আগাম জাতের ধান পাকা শুরু করেছে, চলতি বছর আমন মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় দেখা দিয়েছে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা। উপজেলার কৃষকদের মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ও আনন্দ বিরাজ করছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় পাঁচটি ইউনিয়নে ছয় হাজার ৬৪০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আমন চাষ করা হয়েছে ছয় হাজার ৬৪১ হেক্টর জমিতে। এক হেক্টর বাড়তি লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।

উপজেলার পাঙ্গাশিয়া, শ্রীরামপুর, দক্ষিণ মুরাদিয়া, কার্তিকপাশাসহ বিভিন্ন গ্রামের আমনের মাঠ ঘুরে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখন পর্যন্ত আমনের গাছ বেশ ভালো রয়েছে। কেউ কেউ ক্ষেতের পোকামাকড় দমন করতে ঔষধ স্প্রে করা, জমিতে পানি দেখাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছেন। এ সময়ে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বেড়ে উঠছে আমনের গাছ। মাঠে মাঠে হাওয়ায় দুলছে কৃষাণ-কৃষাণীর সোনালি স্বপ্ন।

তবে অধিকাংশ কৃষক জানান, এবছর আমনের ক্ষেতে ইঁদুরের উপদ্রব বেড়ে গেছে, এছাড়া তেমন কোন রোগ বালাই দেখা যাচ্ছে না। আমনের গাছ ভালো রাখতে ও ধানের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকরা দিন রাত সমানতালে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। এ এলাকার কৃষকরা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকার বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য চাহিদা মেটাতে দিনভর পরিশ্রম করে আসছেন। সবুজে ঘেরা আমনের মাঠ রেখে যেন এক মুহূর্তের জন্যেও বসে বিশ্রাম নেয়ার সময় নেই তাদের। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সিত্রাংয়ের কারণে তেমন কোনো ক্ষয়-ক্ষতি না হয়ে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় ও তেমন কোনো রোগ বালাই না থাকায় বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন। আমনের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছন কৃষকরা।

উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের কৃষক রফিক হাওলাদার বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এবারে আমন চাষে সবচেয়ে বেশি খরচ হলেও মাঠের ফসলে আমরা অত্যন্ত খুশি।

মুরাদিয়ার অপর এক কৃষক কালাম চৌকিদার বলেন, এবছর আমনের ফলন খুব ভালো, তবে ইঁদুরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মেহের মালিকা বলেন, আমাদের অফিস থেকে নিয়মিত তদারকি কর্মসূচির মধ্য দিয়ে কৃষকদের মাঠ সরেজমিনে পরিদর্শন করে তাদের উপযুক্ত পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর আমনের বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে এবং হেক্টরে চার থেকে সাড়ে চার টন ধানের ফলন আশা করা যায়। ইঁদুরের উপদ্রব কমানোর জন্য সমন্বিত আমন চাষাবাদ ও সমন্বিত ইঁদুর নিধন পদ্ধতি গ্রহণের জন্য পরামর্শ দেন।

স্বাআলো/এসএস

.

Author
জেলা প্রতিনিধি, পটুয়াখালী