তিনদিনে মাদরাসা ছাত্র আকরাম হত্যার রহস্য উদঘাটন করলো পুলিশ

বানিয়াচং উপজেলার ১১নং মক্রমপুর ইউনিয়নের মক্রমপুর হাফিজিয়া এতিমখানা মাদরাসার ছাত্র আকরাম খান হত্যাকাণ্ডের তিনদিনের ভিতরেই মোটিভ উদঘাটন করেছে বানিয়াচং থানা পুলিশ। একই মাদরাসার অপর তিন ছাত্র হাতে আকরাম খুন হয়েছে বলে গণমাধ্যমকে এমনটাই জানিয়েছেন বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় চন্দ্র দেব।

তিনি আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের মুল কাহিনী উদঘাটন করতে ওই মাদরাসায় পড়ুয়া মক্রমপুর গ্রামের মস্তু মিয়ার পুত্র ফখরুল মিয়া (১৬), জুলহাস মিয়ার পুত্র ফয়েজ উদ্দিন (১৩) ও মহিবুর রহমানের পুত্র জাহেদ মিয়াকে (১৫) সন্দেহাতীত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত শুক্রবার আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে।

একপর্যায়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই তিন ছাত্র পুলিশকে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা জানায়।

ওসি অজয় চন্দ্র দেব জানান, আকরাম হত্যার বেশ কিছু পূর্বে মাদরাসা এতিমখানার বোর্ডিংয়ে থাকা অনেক ছাত্রের কাপড় রাখার ট্রাংক থেকে টাকা চুরি হয়ে যেত।

প্রায় দিনই তাদের ট্রাংক তালা থাকার সত্ত্বেও এসব চুরি হতো। তারা জানায় এসব ট্রাংক খুলতে একই এতিমখানার ছাত্র নিহত আকরাম খানের নিকট একটা মাস্টার চাবি আছে সেটা দিয়েই মূলত তাদের ট্রাংক থেকে টাকা-পয়সা চুরি করে নিতো আকরাম খান।

বিষয়টি তিন ছাত্রর সন্দেহ হয় যে আকরাম খানই তাদের টাকা-পয়সা চুরি করে নেয়।

এটা নিয়ে ফখরুল, জাহেদ ও ফয়েজ উদ্দিনের মনে আকরাম খানের বিরুদ্ধে দিনদিন ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এবং তাকে সুযোগ পাইলে শিক্ষা দিবে বলে তারা মনস্থির করে।

ওসি আরো জানান, ঘটনার দিন আকরাম খানসহ অন্যান্য ছাত্ররা ফজরের আযানের আগে ঘুম থেকে উঠে পবিত্র কোরআন পাঠ করে পড়াশুনা শেষে সকালের নাস্তা খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে সবাই।

কিন্তু ওই তিন ছাত্র ঘুমের ভান করে এ দিন ই আকরামকে শিক্ষা দেয়ার জন্য সুযোগ খোঁজতে থাকে। একপর্যায়ে আকরাম খান ঘুম থেকে উঠে মাদরাসার পাশে বাথরুমে যায়। তাকে যেতে দেখে রশি নিয়ে ফখরুল. জাহেদ, ফয়েজ ও বাথরুমে যায়। সেখানে গিয়ে ট্রাংক থেকে টাকা চুরির বিষয় নিয়ে কথা বলতে বলতে মাদরাসা সংলগ্ন ফিশারির দেয়ালের কাছে নিয়ে যায়। পরে তাদের মধ্যে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক।

এরই ফাঁকে ফখরুল মিয়া আকরাম খানকে দুই হাত এক করে রশি দিয়ে বাঁধতে চায়। তখন আকরাম খান চিৎকার করলে জাহেদ ও ফয়েজ মাটিতে ফেলে হাত এবং পা আলাদা করে বেঁধে ফেলে। দস্তাদস্তির একফাঁফে ফখরুল মিয়া পাশে পড়ে থাকা ইট দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার ডান দিকে এবং পেঠের ডান দিকে স্বজোরে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।

একপর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে আকরাম খান। তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে পাশ্ববর্তী জলাশয়ের ডুবন্ত নৌকার কাছে নিয়ে আকরামকে চুবাতে থাকে তারা। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর আকরামের দেহ সেখানেই ফেলে তড়িগড়ি করে চুপিসারে মাদরাসায় এসে ঘুমিয়ে থাকে ওই তিন ছাত্র।

ছাত্র আকরাম খানকে যখন কোথাও পাওয়া যাচ্ছিনা তখন খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ডুবন্ত নৌকার পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে ফখরুল, জাহেদ ও ফয়েজ। পরবর্তীতে তারাই মাদরাসার সুপারসহ আশেপাশের মানুষকে এই মরদেহ উদ্ধারের কথা জানায়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

বানিয়াচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) জানান, এ ঘটনা নিহত আকরামের মা বাদি হয়ে বানিয়াচং থানায় একটি মামলা করেছেন। আটক ছাত্রদের ওই মামলায় আসামি দেখিয়ে শনিবার (১৯ নভেম্বর) আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার সন্ধ্যায় মক্রমপুর ইউনিয়নের মক্রমপুর গ্রামের একটি পুকুরে ডুবে থাকা নৌকার নিচ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আকরাম খান (৯) নামে হাফিজিয়া এতিমখানা মাদরাসা এক ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্বাআলো/এস

.

Author
জেলা প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ