মধুপানকারীরা সাবধান

সাতক্ষীরা নিরাপদ খাদ্য অধিকার কর্তৃপক্ষ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সদস্যরা গত ১৬ নভেম্বর রাতে শ্যামনগর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৯টি ড্রামে রক্ষিত ৮০০ কেজি নকল মধু ও নকল মধু তৈরির সরঞ্জামসহ একটি কাভার্ড ভ্যান আটক করে। এ সময় আব্দুর রশিদ পালিয়ে যায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব আটক করা হয়েছে। নকল মধু, চিনি, কেমিক্যাল, মধু বহন কাজে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যানসহ আনুসঙ্গিক মালামাল জব্দ করা হয়।

জানা যায়, একটি মহল চিনি ও ফিটকিরি দিয়ে তৈরি করা মধু সদৃশ দ্রব্যটিকে মধু বলে বিক্রি করে আসছে। মধু সদৃশ দ্রব্যটির এক কেজি তৈরিতে তাদের খরচ পড়ে ১০০। সেটি তারা খাঁটি মধু বলে কেজি প্রতি ২০০ টাকা ক্ষেত্র আরো বেশি দামে বিক্রি করে। জনস্বাস্থ্যের জন্য এর চেয়ে মারাত্মক হুমকি আর কি হতে পারে। পচা বাসি খাদ্যে রোগ ছড়ায়। কিন্তু চিনি ও ফিটকিরি সহযোগে তৈরি দ্রব্যটি পানে মানুষ তো বিরূপ প্রতিক্রিয়ার শিকার হতে পারে। মধুর অনেক গুণ, নিয়মিত মধু পানে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এ বিশ্বাসে আমরা অনেকেই অজ্ঞতা বশত মধু নামে এ অখাদ্য খেয়ে চলেছি। শিশুদের অনেকে মধু পান করান। কিন্তু আমরা জানছিনে অজান্তে আমরা নিজ হাতে তুলে বিষ খাচ্ছি এবং খাওয়াচ্ছি। এ দৃশ্য মনে হয় শুধূ শ্যামনগরে নয়, আরো অনেক জায়গায় চলছে এই মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড। টিস্যু পেপার দিয়ে দই তৈরির ঘটনা এদেশে গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না। বর্তমান সরকার এ সব অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হলেও তারা পরোয়া করছে না। তাদের পেছনে নিশ্চয় খুঁটোর জোর আছে।

যারা জনস্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। এই অবস্থা যদি সারা দেশে হয় তাহলে এই জাতি আর কত দিন সুস্থ থাকবে এটাই আজ ভাববার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সব ক্ষেত্রে ছাড় দেবার মানষিকতা পরিহার করে প্রতিটি অনিয়ম অবহেলা দুর্নীতি অনাচারের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায় ধীর প্রতিক্রিয়ায় এ জাতি একদিন পুরোটাই অসুস্থা হয়ে পড়বে।

স্বাআলো/এসএস

.