সাড়ে ৩২ হাজার নয়, প্রাথমিকে অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষক নিয়োগের দাবি

সাড়ে ৩২ হাজার নয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন প্রার্থীরা।

রবিবার (২০ নভেম্বর) সকালে তারা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সামনে জরো হয়ে এ দাবি জানিয়েছেন।

তারা বলছেন, কতজন শিক্ষক নিয়োগ হবে সে সংখ্যা নিয়ে একেক সময় একেক কথা বলছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তারা। আগে লিখিত পরীক্ষা উত্তীর্ণদের মধ্যে থেকে ১:৩ অনুপাতে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হতো। সে ধারাবাহিকতায় ভাইভায় অংশ নেয়া দেড় লাখ প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৫০ হাজারকে নিয়োগ দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

রবিবার সকাল থেকে প্রার্থীদের একাংশ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সমানে জড়ো হয়ে অর্ধলক্ষাধিক শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করেন। দুপুরে অধিদফতরের সামনে থেকে সরে যান প্রার্থীরা।

প্রার্থীরা বলছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজার ৫৭৭ জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও পরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানায়। এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পক্ষ থেকে ৫৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছিলো। কিন্তু এখন কর্মকর্তারা বলছেন ৩২ হাজার ৫৭৭ জন শিক্ষকই নিয়োগ দেয়া হবে। আমরা ১ লাখ ৫১ হাজারের বেশি প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভাইভায় অংশ নিয়েছিলেন। আগে ভাইভায় অংশ নেয়া প্রার্থীদের একতৃতীয়াংশ শিক্ষক পদে নিয়োগ পেতেন। কিন্তু এখন তারা দেড় লাখের ভাইভা নিয়ে বলছেন সাড়ে ৩২ হাজার নিয়োগ হবে। আমরা তাই ভাইভায় অংশ নেয়া প্রার্থীদের এক তৃতীয়াংশ বা ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হোক।

সাড়ে ৩২ হাজার পদে শিক্ষক নিয়োগের জন্য আবেদন করে ৫০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের দাবি কেনো জানানো হচ্ছে জানতে চাইলে প্রার্থীরা আরো বলেন, বিজ্ঞপ্তিতে ৩২ হাজার উল্লেখ ছিলো না। তখন কর্মকর্তারা বলেছিলেন ৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের কথা। কিন্তু পরে ৪৫ হাজার ও এরপর ৫৮ হাজার শূন্যপদের কথা কর্মকর্তারা বলেছিলেন। সে হিসেবেই লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীদের উত্তীর্ণ করা হয়েছিলো। আমরা চাই তারা তাদের দেয়া কথা রাখুক।

৩২ হাজার শিক্ষক নিয়োগ হলে নিয়োগ পাবেন না বলে মনে করছেন কিনা প্রশ্ন ছিলো প্রার্থীদের কাছে। কুষ্টিয়া থেকে আসা একজন প্রার্থী বলেন, ৩২ হাজার হলে নিয়োগ হবে সে কনফিডেন্স পাচ্ছি না। তবে, ৫০ হাজার নিয়োগ হলে আমি নিয়োগ পাবো বলে আশা করি।

একই প্রশ্নের জবাবে লালমনিরহাট জেলা থেকে আসা প্রার্থী শরিফুল ইসলাম বলেন, আমরা সবাই চাকরি প্রার্থী। চাকরির জন্য ভাইভা দিচ্ছি। আমাদের বয়স শেষ হয়ে যাচ্ছে। সরকারি ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ থেকে বয়সের ছাড় দিলেও সে ছাড় শেষ হয়ে যাবে আগামী জুনে। তাই আমরা নিয়োগ নিয়ে শঙ্কিত। তাই আমরা চাই ৫০ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে আমাদের বেকারত্ব ঘোচানো হোক।

এদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিকে শিক্ষা নিয়োগের ফল চলতি নভেম্বর মাসেই প্রকাশিত হবে। ফল তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। ৩২ হাজার ৫৭৭ জন শিক্ষক নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। সে অনুসারেই কাজ চলছে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ে ২৫ হাজার ৫৯৮ জন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্যপদে ৬ হাজার ৯৭৯ জনকে নিয়োগ দেয়া হবে।

২০২০ খ্রিষ্টাব্দে অক্টোবরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। তখন ৩২ হাজার ৫৭৭ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। তবে চলতি মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত এক সভায় ৩২ হাজারের পরিবর্তে ৪৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছিলো প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায়। কিন্তু ভাইভা নিয়ে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পক্ষ থেকে ৩২ হাজার ৫৭৭ জন শিক্ষক নিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা তিন ধাপে নেয়া হলেও চূড়ান্ত ফল একবারেই প্রকাশ করা হবে। প্রথম ধাপের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ৪০ হাজার ৮৬২ জন, দ্বিতীয় ধাপে ৫৩ হাজার ৫৯৫ এবং তৃতীয় ধাপে ৫৭ হাজার ৩৬৮ জন। এ নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেন ১৩ লাখ ৯ হাজার ৪৬১ প্রার্থী। গত অক্টোবরে মৌখিক পরীক্ষা শেষ হয়েছে।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
ঢাকা অফিস