যশোর স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহাসিক জনসভা সফল করতে যুবলীগের প্রস্তুতি সভা

আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) যশোর স্টেডিয়াম মাঠে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক জনসভা সফল করার লক্ষ্যে যুবলীগের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২১ নভেম্বর) যশোর জিলা পরিষদ মিলনায়তনে যশোর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা, সাতক্ষীরা, খুলনা মহানগর ও খুলনা জেলার নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে এ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশের সভাপতিত্বে প্রস্তুতি সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

প্রস্তুতি সভায় সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজ্জামেল হক বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কোনো নীতি-নৈতিকতা নেই। দেশ ও সাধারণ মানুষের প্রতি কোনো প্রকার ভালবাসা ও মমত্ববোধ নেই। গুম, খুন ও সন্ত্রাসের রামরাজত্বের মাধ্যমে ক্ষমতায় যাওয়াই তাদের রাজনীতির মূখ্য উদ্দেশ্যে। হাওয়া ভবনের মানুষের জিম্মি করে অর্থ-সম্পাদের পাহাড় গড়াই তাদের রাজনৈতিক কালচার। তারা কখনো সাধারণ মানুষকে নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেন না। তাই মানুষ বিএনপির থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বিএনপির সময় খাদ্য, বিদ্যুৎ, সার, জ্বালানীতে দুর্ভিক্ষ নেমে আসে। সেই কথা মানুষ এখনো ভুলে যায়নি। দুর্নীতিতে সারাবিশ্বের মধ্যে প্রথম হয়। বাঙালি জাতিকে বিশ্বের দরবারে কলঙ্কিত করে।

আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, যুবলীগের গর্জনে বিএনপি জামায়াত দেশ ছেড়ে পালাবে। নতুন করে কোন ষড়যন্ত্র করার সুযোগ তাদের দেয়া হবে না। দেশবাসীর কাছে বিএনপির চরিত্র স্পষ্ট হয়ে গেছে। ওদের মিথ্যাচার, ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সকল স্তরের সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। উন্নয়ন দেখে সাধারণ মানুষ শেখ হাসিনাকে ভালবাসে। লুটপাত, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের জন্য বিএনপি-জামায়াতকে জঘণ্যতম ঘৃণা করে।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, বিএনপি বাংলার সাধারণ মানুষকে কখনো সুখ-শান্তি ও স্বস্তি দিতে পারেনি। খুন, জখম, গুম তাদের ঐতিহাসিক চরিত্র। শেখ হাসিনার উন্নয়নের মানদণ্ডে বিএনপির কোনো অবস্থানই নেই। তারা সফল হাওয়া ভবন থেকে ২৫ শতাংশ কমিশন বাণিজ্যে। তারা সফল বর্বর তারেকের নির্দেশে অগ্নি সন্ত্রাসের মত জঘণ্যতম কাজে। পালাতক সাজাপ্রাপ্ত আসামি তারেক জিয়াকে দেশের মানুষ কখনো ক্ষমা করবে না। আন্দোলনের নামে খুনি তারেক সহজ-সরল বিএনপির তরুণ প্রজন্মের সরলতাকে ব্যবহার করছে। নিজে বিদেশে আরাম-আয়েশে থেকে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিপদে ফেলছেন। দেশবাসীর কাছে তারেকের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে গেছে। কেউ তার ডাকে আর সাড়া দেবে না। দেশবাসীর কাছে স্পষ্টভাবে প্রমাণ হয়েছে শেখ হাসিনা ছাড়া সাধারণ মানুষকে নিয়ে কেউ চিন্তা-ভাবনা করেন না। এতিমের টাকা চোরদের দেশবাসী কখনো বিশ্বাস করবে না। দেশ নিরাপত্তার জন্য সবাই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অধিকার, সম্মান রক্ষার জন্য শেখ হাসিনার প্রশ্নে সবাই একাট্টা। খুনি তারেক গংদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে সবাই প্রস্তুত। সেইজন্য আগামী সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে আবারো রাষ্ট্রক্ষমতায় বসানোর জন্য এখন থেকেই প্রচারভিযান চালাতে হবে। উন্নয়নের চিত্র মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে।

প্রস্তুতি সভায় আরো বক্তব্য রাখেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ড. শামীম আল সাইফুল সোহাগ প্রমুখ।

এসময় প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ সোহেল উদ্দিন, মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন, রফিকুল ইসলাম, নবী নেওয়াজ, ইঞ্জিনিয়ার মৃনাল কান্তি জোদ্দার, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দীসহ যুবলীগের কেন্দ্রীয় ও যশোর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মাগুরা, সাতক্ষীরা, খুলনা মহানগর ও খুলনা জেলার যুবলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর