যক্ষ্মা থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে

জাতীয় যক্ষ্মা নিরোধ সমিতি-নাটাবের উদ্যোগে মেহেরপুরে যক্ষ্মা নিরাময়ে প্রধান শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০ নভেম্বর সকালে স্টেডিয়াম হলরুেেম অনুষ্ঠিত সভায় সদর উপজেলার ৩০ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৩০ জন প্রধান শিক্ষক অংশ গ্রহণ করেন।

সভায় যক্ষ্মা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রয়োজন ও গুরুত্ব বিবেচনায় করণীয় বিষয়সহ যক্ষ্মা কি, যক্ষ্মার লক্ষণ, যক্ষ্মা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়, কিভাবে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা নিতে হয়, চিকিৎসার ব্যয় প্রভৃতি বিষয়ের প্রতি আলোকপাত করা হয়।

কথায় আছে ‘যার হয়েছে যক্ষ্মা তার নেই রক্ষা’। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে এই কথাটা এখন অচল হয়ে গেছে। বিজ্ঞানীদের প্রণান্ত প্রচেষ্টার ফলে এখন যক্ষ্মা রোগী সুস্থ হয়ে এই সমাজে মিলেমিশে বসবাস করতে পারছে। অথচ একটা সময় ছিলো যখন যক্ষ্মা রোগীকে সমাজচ্যুত করে রাখা হতো। ছোয়াচে রোগ এ ভয়ে কেউ তার কাছে ভিড়তো না। পরিবারের সদস্যরা তার প্লেট-গ্লাসে খেতো না। একে দূরারোগ্য রোগের যন্ত্রণা তার ওপর সমাজচ্যুতি অবস্থা, এভাবে একজন মানুষ কতদিন এই পৃথিবীতে টিকে থাকতে পারে। অন্তত সেই অবস্থার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন একে আরো উন্নয়নের দিকে নিয়ে যেতে হবে। সেই বিষয়টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা।

যক্ষ্মা রোগ শনাক্তকরণ ও প্রতিরোধকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি যক্ষ্মা রোগ নিমৃূলে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের বিষয়টি নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভূক্ত করা উচিত। মেহেরপুরে যক্ষ্মা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় আলোচিত বিষয় বাস্তবায়ন হওয়া জরুরি।

এখন মূল লক্ষ্য যক্ষ্মা রোগের শনাক্তকরণ কর্মসূচি বাড়ানো। পাশাপাশি এ রোগ নিয়ন্ত্রণে আমরা রোগ শনাক্তকরণের জন্য আধুনিক পদ্ধতির দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া। পাশাপাশি যক্ষ্মা রোগ নির্মূলে সঠিক বার্তা পৌছানোর মাধ্যমে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবাইকে উন্নত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগ নিশ্চিত করা।

আধুনিক সুযোগ সুবিধা চিকিৎসা সবই শহরে রয়েছে। গ্রামে এ সব সুযোগ সুবিধা হাতের নাগালে নেই। শহুরে মানুষের উচিত যক্ষ্মা রোগের ব্যাপারে চিকিৎসকদের নির্দেশনা বা পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া। আর গ্রামের মানুষ শহরে চিকিৎসা নিতে গিয়ে যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হয়, চিকিৎসা নিতে গিয়ে যেনো রোগী ও তাদের স্বজনরা বিতশ্রদ্ধ না ওঠে সেদিকে চিৎিসকদের উদার দৃষ্টিতে খেয়াল রাখতে হবে। আজকাল চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এন্তার অভিযোগ উঠছে। তারা নাকি মানবতার সেবক এই কথাটি বেমালুম ভুলে গেছেন। আমরা মনে করি এ অভিযোগ সব চিকিৎকের বিরুদ্ধে নয়। কিছু মানুষ এমন থাকতে পারে। তাদের বিষয়টি ভিন্ন। মানুষ মানুষের জন্য এ কথাটি মনে রেখে সবাইকে এগাতে হবে। যক্ষ্মা যদি সমাজে ছড়িয়ে পড়ে তাহলে উন্নয়ন বিঘ্নিত হবে, জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

স্বাআলো/এস

.