প্লাস্টিক-পলিথিন থেকে মুখ ফেরানো যাচ্ছে না

দোকানদারদের একটি অভ্যাস হয়েছে কিছু কিনলেই সেটি একটি পলিথিন ব্যাগে ভরে দেবেন। কেউ যদি বলেনও পলিথিনের দরকার নেই তবুও পরিথিন ব্যাগটি দোকানদার ফেরৎ নেবেন না। অথচ ক্রয়কৃত পণ্যের সাথে কিনা পয়সায় ক্রেতা এই ব্যাগটি নিয়ে যে একটি ক্যানসারের উপকরণ বাড়িতে নিলেন তা কিন্তু তিনি মোটেই টের পেলেন না। নিরব ঘাতক এভাবে নিরবে ঢুকে পড়ছে সবার বাড়িতে। বিষয়টা এমন যে কিছু কিনলেই ক্যানসার উপকরণ ফ্রি। গণমাধ্যমে পলিথিন নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য পরিবেশিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। ফলে পলিথিনের ব্যবহার মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে বহুদিন আগেই। বেড়েছে রোগ ব্যাধি, অকাল মৃত্যু।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বলছে, শুধু ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি পলিথিন ব্যাগ জমা হচ্ছে। আর বিশ্বে প্রতিবছর পাঁচ লাখ কোটি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করা হচ্ছে। পলিথিনের বহুবিধ ব্যবহারের কারণে মানবদেহে বাসা বাঁধছে ক্যান্সার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পলিথিন বা প্লাস্টিকের ব্যবহারের ফলের হরমন বাধাগ্রস্ত হয়। এল ফলে দেখা দিতে পারে বন্ধ্যাত্ব, নষ্ট হতে পারে গর্ভবতী মায়ের ভ্রণ, বিকল হতে পারে লিভার ও কিডনি।

গবেষকরা বলছেন, প্লাস্টিক বা পলিথিনে গরম পানি বা গরম খাবার ঢালার সঙ্গে সঙ্গে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় বিসফেলন-এ তৈরি হয়। বিসফেনল-এ থাইরয়েড হরমনকে বাধা দেয়। বাধাপ্রাপ্ত হয় মস্তিষ্কের গঠনও। গর্ভবতী নারীদের রক্ত থেকে বিসফেনল-এ যায় ভ্রুণে। ফলে নষ্ট হতে পারে ভ্রুণ, দেখা দিতে পারে বন্ধ্যাত্ব। শিশুও হতে পারে বিকলাঙ্গ। তাছাড়া ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার ১০ কারণের মধ্যে অন্যতম হলো প্লাস্টিকের ব্যবহার। এছাড়া পলিথিনের বহুবিধ ব্যবহারে বিকল হতে পারে লিভার ও কিডনি।

পলিথিনে শুধু গরম খাবার বা গরম পানির ব্যবহারেই ক্ষতি হয় না, স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি বা হিমায়িত (ফ্রিজিং) পানির ব্যবহারেও ক্ষতি হয় সমানভাবে। পলিথিনে মুড়িয়ে ফ্রিজে রেখে সেই খাবার গ্রহণ করলেও সমান ক্ষতি হয়।

কোপেনহেগেনভিত্তিক সংস্থা ‘দ্য ওয়ার্ল্ড কাউন্টস’ এর তথ্য মতে, প্রতিবছর বিশ্বে পাঁচ লাখ কোটি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার হচ্ছে। এর মাত্র এক শতাংশ পুনর্ব্যবহারের জন্য রিসাইক্লিং করা হয়। আর এসব পলিথিনের ১০ ভাগ ফেলা হয় সমুদ্রে। পলিথিনের এসব ব্যাগ একশ’ বছরেও পচবে না বা মাটির সঙ্গে মিশবে না। এটা মাটির গুনাগুনকে নষ্ট করে দেয়।

পলিথিন থেকে মুখ ফেরানো যা”ছ না। এখন নলকূপ স্থাপন করতে গেলে স্টিলের পাইপ মেলে না। মিললেও সবার কেনার সাধ্য নেই। সেখানে প্লাস্টিকের পাইপের একচ্ছত্র আধিপত্য। ওভারহেড ট্যাংক, সেটিও প্লাস্টিকের। এমনিভাবে জগ, ওষুধের বোতল, টিফিনবক্স, প্লেট, পিরিস সব ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের অবাধ রাজত্ব। আর শপিং ব্যাগের করমুক্ত রাজত্বে সবাই যেন অসহায়ত্বের শিকার। আইন করা হয়েছে, কিন্তু ঠেকানো যাচ্ছে না। সম্ভত জীবনের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে পড়ায় প্লাস্টিক-পলিথিন উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না।

.