এসএসসির ফল ছেলেদের জন্য সতর্ক সংকেত

এসএসসি পরীক্ষার ফল এবার ছেলেদের জন্য এক সতর্ক সংকেত দিয়ে গেলো। প্রমাণ করে দিয়ে গেলো পড়ার টেবিলে না ফিরলে কোনো উপায় নেই। বই ফেলে সারা দিন অহেতুক এ দিক সে দিক সময় কাটালে মেধা শানিত না হয়ে ভোতা হবে। ছেলে বা পুরুষের গর্ব নিয়ে থাকলে ওই গর্বে ঘাস-জল খাবে না।

যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতায় এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। তারা জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ হাজার ২৭৫ জন। আর ১৩ হাজার ৬১৭ জন ছেলে পেয়েছে জিপিএ-৫। পাসের হারেও এগিয়ে মেয়েরা। ছাত্রীদের গড় পাসের হার ৯৫ দশমিক ৯২। ছাত্রদের পাসের হার ৯৪ দশমিক ৪৩। গত বছরও ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের চেয়ে বেশি ছিলো।

শিক্ষা বিষয়ক বিশেষজ্ঞগণ বার বার শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরে আসার জন্য বলছেন। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য পড়ার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু আমাদের তরুণরা বিশেষ করে ছাত্ররা এ ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। তার বেশি উদাসীন তাদের অভিভাবকরা। ছেলে সারা দিন কোথায় থাকে, কী করে তার কোনো খোঁজ এখন অধিকাংশ অভিভাবক রাখে না। রাতে ঘরে ফিরলেও সে পড়ে না অন্য কিছু করে তাও দেখার প্রয়োজন বোধ করে না এ সব অভিভাবকরা।

আর মূলের সর্বনাশটা হচ্ছে ছেলের হাতে একটা মোবাইল ধরিয়ে দেয়া। এই মোবাইলে যুব সমাজকে যে কীভাবে কুরে কুরে খাচ্ছে তা বোধ করি মাদকের নেশায়ও করে না। একজন ছাত্র যখন স্কুলে রওনা হয় তখন তার কাছে মোবাইল নামক এই সর্বনাশা যন্ত্রটি থাকার কি কোনো প্রয়োজন আছে? অভিভাবকরা তো দেখছে। কিন্তু কিছুতো বলছেই না বরং আহ্লাদে গদগদ হচ্ছে নিজেকে যোগ্য ছেলের বাপ ভেবে। বাড়ি থেকে মোবাইল এনে ওই ছাত্ররা ক্লাসে ব্যবহার করে, যখন শিক্ষক ক্লাস নেন। এর চেয়ে সর্বনাশ আর কি হতে পারে?

যতদূর জানা যায় মেয়েরা এ ক্ষেত্রে অনেকটা সংযত। মেধায় অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলেও নিয়মিত লেখাপড়া চর্চার কারণে তারা এগিয়ে যাচ্ছে।

স্বাআলো/এস

.