প্রধানমন্ত্রীর হাতে রবিবারই প্রাণ পাবে চট্টগ্রামের ৩০ প্রকল্প

চট্টগ্রাম সফরে এসে আগামীকাল রবিবার (৪ ডিসেম্বর) মোট ৩০টি প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া চারটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করবেন তিনি। যদিও চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে আওয়ামী লীগের জনসভায় বক্তব্য রাখার জন্যই চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন প্রায় ১০ বছর পর চট্টগ্রাম নগরে কোনো দলীয় জনসভায় আসছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে নগরীতে সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর জনসভা হয়েছিলো ২০১২ সালে। অবশ্য ২০১৮ সালের ২১ মার্চ চট্টগ্রামের পটিয়ায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে নৌকার আদলে বিশালকায় মঞ্চ। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) জনসভা চলাকালে সব ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। সিএমপি কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় জানিয়েছেন, মাঠে যারা আসবেন তাদের ওপর কঠোর নজরদারিও রাখা হবে। শহরজুড়ে এরই মধ্যে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

কৃষ্ণপদ রায় জানিয়েছেন, জনসভাকে ঘিরে গড়ে তোলা হবে তিন স্তরের নিরাপত্তা। পলোগ্রাউন্ড মাঠের ভেতরে ও বাইরে আমাদের সাড়ে সাত হাজার সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) পুরো আয়োজন তদারকি করছে। তাদের পরামর্শ মতে, পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন থাকবে।

এদিকে ৪ ডিসেম্বর জনসভায় বক্তব্য রাখার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৩০টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও চারটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও করবেন।

চট্টগ্রামে যে চারটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে, সেগুলো হচ্ছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সন্দ্বীপ অংশে জেটিসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ, আনোয়ারায় বাংলাদেশ মেরিন অ্যাকাডেমির আধুনিকীকরণ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকায় আধুনিক সুযোগ সুবিধাসম্পন্ন জাতিসংঘ সবুজ উদ্যান স্থাপন এবং বিদ্যুৎ বিভাগের অধীনে চট্টগ্রামস্থ বিপিসি ভবন নির্মাণকাজ।

যে ৩০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, তার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলায় হালদা নদী ও ধুরং খালের তীর সংরক্ষণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প, সন্দ্বীপ উপজেলার ৭২নং পোল্ডারের ভাঙনপ্রবণ এলাকায় স্লোপ প্রতিরক্ষা কাজের মাধ্যমে পুনর্বাসন (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প এবং বাঁশখালী উপজেলার ৬৪/১এ, ৬৪/১বি এবং ৬৪/১সি পোল্ডারের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের স্থায়ী পুনর্বাসন প্রকল্প (দ্বিতীয় সংশোধিত)।

অন্যদিকে তার মধ্যে রয়েছে, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে সীতাকুণ্ড টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফটিকছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং রাউজান টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্বোধন। এ ছাড়া কোতোয়ালী থানাধীন দারুল উলুম আলিয়া মাদরাসার একটি ছয়তলা ভবন এবং সীতাকুণ্ড টেকনিক্যাল স্কুলের একটি পাঁচতলা ভবন ও একটি চারতলা প্রশাসনিক ভবন, ওয়ার্কশপ, একতলা সার্ভিস এরিয়া ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণসহ ভবন নির্মাণের কাজও উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের তালিকায় রয়েছে ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নবনির্মিত ভবনও। এগুলো হচ্ছে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে ১০ তলা একাডেমিক ভবন, নগরীর গুল-এ-জার বেগম সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয়তলা ভবন, কাপাসগোলা সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয়তলা ভবন, কুসুমকুমারী সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয়তলা ভবন, পূর্ব বাকলিয়া সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয়তলা ভবন, মিরসরাই উপজেলার করেরহাট কে এম উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভবন, পাঁচলাইশ থানাধীন বন গবেষণাগার উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয়তলা ভবন, বোয়ালমারী উপজেলাধীন হাজী মোহাম্মদ জানে আলম উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভবন, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভবন, সন্দ্বীপের সন্তোষপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভবন এবং ডবলমুরিং থানাধীন সরকারি সিটি কলেজে ১০ তলা অ্যাকাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ, পলোগ্রাউন্ড বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ভবন সম্প্রসারণ, সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের লালদিঘি মাঠের ছয় দফা মঞ্চ নির্মাণসহ সংস্কার কাজ এবং খুলশী থানাধীন সিএমপি উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি ভবনের সম্প্রসারণ কাজ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এছাড়া উদ্বোধন করবেন মিরসরাইয়ের হিংগুলির ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র এবং লোহাগাড়ার চুনতির ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিটাক চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নারী হোস্টেল নির্মাণকাজ এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে নাসিরাবাদ শিক্ষানবিস প্রশিক্ষণ দফতর সংস্কার ও আধুনিকায়ন কাজের উদ্বোধনও করবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের তালিকায় আরো রয়েছে নগরীর দেওয়ানহাটে হর্টিকালচার সেন্টারে একটি প্রশিক্ষণ ও অফিস, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন (প্রতিটি ৫০০০ বিএইচপি/ ৭০ টন বোলার্ড পুল) টাগবোট সংগ্রহ শীর্ষক প্রকল্প ও চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড এবং টার্মিনালের জন্য প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট সংগ্রহ শীর্ষক প্রকল্প।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
চট্টগ্রাম ব্যুরো