রফতানি কমে যাওয়ায় সাভারে ৪ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা

রাজধানীর সাভারের আশুলিয়ায় হেমায়েতপুর এলাকায় অবস্থিত ডার্ড গ্রুপের মোট ৪টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে কারখানাগুলোর সামনে নোটিশ টানিয়ে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

কারখানাগুলো হলো, দীপ্ত এপারেলস, দীপ্ত গার্মেন্টস, ডার্ড গার্মেন্টস ও ডার্ড ওয়াশিং প্লান্ট।

ডার্ড গ্রুপের সাভার জোনের সিকিউরিটি ইন্সপেক্টর আসাদ বলেন, চারটি কারখানার মধ্যে শুধু দীপ্ত এপারেলস লিমিটেডেই প্রায় ৭ হাজার কর্মী রয়েছে, বাকি ৩টি কারখানায় সব মিলিয়ে শ্রমিকসংখ্যা ৩ হাজারের মতো। সবমিলিয়ে চারটি কারখানায় মোট ১০ হাজারের মত কর্মী রয়েছে বলে জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডার্ড গ্রুপের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, রফতানির আদেশ কমে যাওয়ায় কোম্পানিটি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।

যোগাযোগ করলে দীপ্ত এপারেলস লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মামুন বলেন, মালামাল স্বল্পতা, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিসহ কয়েকটি কারণে কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এর বেশি কিছু আর আমি বলতে পারছি না, বাকিটা আপনারা নোটিশে পাবেন।

রাজু আহমেদ নামে দীপ্ত এপারেলসের একজন কর্মী বলেন, বেশ কিছুদিন যাবৎ প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বকেয়া বেতন, করোনাকালীন কিছু পাওনা, ছুটির টাকাসহ কয়েকটি বিষয় নিয়ে ঝামেলা চলছিলো।

এর মধ্যে কিছুদিন আগে প্রতিষ্ঠানটির মিড-লেভেল স্টাফদের দুই মাসের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে কর্মবিরতি পালনের পর কর্তৃপক্ষ এক মাসের বকেয়া পরিশোধ করে বলে জানান তিনি।

রাজু আরো জানান, বাকি দাবিগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়ায় গত শুক্রবার দীপ্ত এপারেলসের এই কর্মীরা আবারো মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করে বলে। এক পর্যায়ে শুক্রবার রাত ১২টার পর কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক কর্মীর মুঠোফোনে খুদেবার্তা পাঠিয়ে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে, এবং সকালে কারখানার ফটকে বিজ্ঞপ্তি টানিয়ে দেয়া হয়।

বন্ধ ঘোষিত কারখানাগুলোর নাম উল্লেখ করে ডার্ড গ্রুপের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও কারণবশত কারখানার উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০- এর ধারা ১৩ অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করছে।

নোটিশে বলা হয়, এই বন্ধের সিদ্ধান্ত শনিবার (৩ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হবে এবং কারখানা খোলার তারিখ পরবর্তীতে জানানো হবে।

জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কবির হোসেন বলেন, কোন প্রেক্ষাপটে বা কী কারণে আসলে কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তা আমরা পরিষ্কার নই।

তিনি আরো বলেন, সকালে কারখানাগুলোর কর্মীরা কাজে যোগ দিতে এসে কারখানার গেটে বন্ধের নোটিশ দেখতে পায়। পরে বেশ কিচ্ছুক্ষণ অপেক্ষা করে তারা নিজ নিজ বাসায় ফিরে যায়।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
ঢাকা অফিস