সৃজনশীল কাজে পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন

অপার সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। কিন্তু হলে কি হবে। সম্ভবনা থাকলেই তো আর আপনা আপনি সুফল হাতে পৌঁছায় না। হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হয়। এজন্য প্রয়োজন পৃষ্ঠপোষকতা, অর্থনৈতিকসহ সব ধরনের সহযোগিতা। আর এ ক্ষেত্রে সরকারি সুদৃষ্টি সবার আগে প্রয়োজন। সম্ভাবনার দেশটিতে প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন সম্ভাবনার খবর পাওয়া যায়। সর্বশেষ যে খবরটি পাওয়া গেছে তাহলো যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রাম গোপাল বহুমুখী বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্ণব, শাহেদ ও বিথি পেট্রোল এবং পানি দিয়ে বৈদ্যুতিক উপায়ে উৎপন্ন করেছে লিকুইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)। এ প্রজেক্ট তৈরিতে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাখাওয়াত হোসেন। ৩ ডিসেম্বর সকালে যশোর টাউন হল মাঠে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় এ প্রজেক্টটির প্রদর্শনী করা হয়।

প্রজেক্টির উদ্ভাবক অর্ণব জানায়, এ প্রজেক্টের মাধ্যমে মানুষ স্বল্প খরচে জ্বালানি গ্যাস উৎপাদন করতে পারবে এবং তা দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করতে পারবে। এ পদ্ধতিতে ৫০০ গ্রাম পেট্রোল এবং ৫০০ গ্রাম পানি থেকে প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা এলপি গ্যাস উৎপাদন সম্ভব। প্রজেক্টটি তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় হাজার টাকা।

মিডিয়ার কল্যাণে আমরা এ ভাবে প্রতিনিয়ত অনেক সম্ভাবনার খবর পাই। কিন্তু কিছু দিন যেতে না যেতেই সে খবর নিয়ে আর কোন উ”চবাচ্য থাকে না কারো । অর্থাৎ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকায় সবই অন্ধকারের অতল গহ্বরে হারিয়ে যায়। গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছিল পাথর কুঁচির পাতা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হতে পারে। কিন্তু কোথায় যে তা হারিয়ে গেল তা কে বলবে। যশোরের শার্শা মিজানুর রহমান একজন উদ্ভাবক। তিনি প্রতিবন্ধীদের জন্য মোটার গাড়ি, ডিজিটাল কাইচি, জ্বালানি বিহীন সেচযন্ত্র, ধোঁয়া থেকে জ্বালানী উৎপাদন, পরিবেশ সেফটি যন্ত্র, ব্যায়াম যন্ত্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বহু যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন। একই উপজেলার টেংরা গ্রামের শাহজাহান ডাক্তার বিনা জ্বালানিতে একটি সেচ যন্ত্র তৈরি করে এক পুকুর পানি সেচে দেখিয়ে দিয়েছিলেন তার উদ্ভাবিত যন্ত্রের কার্যকারিতা। কপোতাক্ষ নদের কাটা শেওলা দিয়ে মাছের খাদ্য তৈরি করা হচ্ছে। এই খাদ্য ব্যবহার করে মাছ চাষে ব্যয়ও কমেছে। ব্যয় সাশ্রয়ের পরিমাণ দুই তৃতীয়াশ। মাছ চাষিরাও যে আর্থিক সাশ্রয় পাচ্ছেন। এক বস্তা খাদ্যের দাম যেখানে প্রায় দেড় হাজার টাকা সেখানে সমপরিমাণ শেওলার দাম মাত্র ১২০টাকা। কিন্তু সব কিছুই পৃষ্ঠপোষকতার অবাবে হারিয়ে গেছে।

.