চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের জনসভায় মানুষ হয়েছে ২০ লাখ

চট্টগ্রামের জনসভায় পলোগ্রাউন্ড মাঠ ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২০ লাখ লোক সমাগম হয়েছিলো বলে দাবি আওয়ামী লীগের।

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে জেলা আওয়ামী লীগের এক সংবাদ সম্মেলনে নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন ওই সংখ্যা জানান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে নাছির বলেন, গতকালের জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। জনসভার মঞ্চ থেকে আমরা মাঠের চিত্র দেখেছি। পরে আমরা বাইরের অবস্থা দেখেছি। অনেকের বক্তব্য হলো, ইতোপূর্বে যতগুলো জনসভা হয়েছে এতবড় আর হয়নি।

বলেছিলাম, পলোগ্রাউন্ডের জনসভা হবে সর্বকালের সর্ববৃহৎ। কেউ কেউ শঙ্কা প্রকাশ করেছিলো। কিন্তু আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আরেকটি বিষয় হলো, রাঙামাটি, ফেনীসহ চট্টগ্রামের বাইরে থেকে অনেকে আসতে চেয়েছিলো। আমরা নিষেধ করেছি। দায়িত্ব নিয়ে বলছি, একজনও চট্টগ্রামের বাইরে থেকে আসেনি। সবাই চট্টগ্রাম জেলার মানুষ। চট্টগ্রামবাসীর কাছে আমরা কৃতজ্ঞ।

বিএনপি বলেছে, নভেম্বরে ওই একই মাঠে তাদের জনসভায় ৩ লাখ লোক সমাগম হয়েছিলো। রবিবার আওয়ামী লীগের জনসভায় কত লোক হয়েছে তা নাছিরের কাছে জানতে চেয়েছিলেন একজন সাংবাদিক।

উত্তরে তিনি বলেন, আপনাদের একজন সাংবাদিক বলেছেন ১০ লাখ। আমি তো বলি যে ২০ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে। মাইক অনেক দূর দূরান্ত পর্যন্ত দিয়েছি।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনে নাছির বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনসভা দেখে আবেগাপ্লুত হয়েছেন এবং খুব খুশি হয়েছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা তো বাইরের অবস্থা দেখোনি। হেলিকপ্টার দিয়ে কয়েকবার উপর থেকে নাকি উনি দেখেছেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একাধিকার, এমনকি সভাস্থল ত্যাগের পূর্বে ১০ মিনিটের বেশি আমাদের সাথে কথা বলেছেন। এত বেশি খুশি তিনি হয়েছেন। এটা আমাদের চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর এবং দক্ষিণ জেলার সাংগঠনিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ।

আরেক প্রশ্নের জবাবে নাছির বলেন, বিএনপির পাল্টা জনসভা আমরা করিনি। এটা কো-ইনসিডেন্স হতে পারে। আর বিএনপির পাল্টা করতে হবে বলেও মনে করি না। বিএনপিকে আলাদা গুরুত্ব দিয়ে আমরা কর্মসূচি নেবো না।

আপনারা জানেন বিএনপি কোথায় মঞ্চ করেছে, আমরা কোথায় করেছি। তখন পলোগ্রাউন্ড মাঠের পরিধি কতটুকু ছিল, এখন কতটুকু। সামনে দেয়ালটা অপসারণ করে মাঠ অনেক প্রশস্ত করেছি। পাশেও কিছু জমি দখলমুক্ত করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়েছে। মাঠ অনেক প্রশস্ত হয়েছে। কম্পেয়ার করলে ওটার সাথে কোনো তুলনাই হয় না।

দক্ষিণ জেলার সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, জনসভায় উপস্থিতি দেখে প্রধানমন্ত্রীও খুশি। চট্টগ্রামে মেট্রোরেল, কালুরঘাট সেতুসহ আর কী কী করবেন তাও বলেছেন। চট্টগ্রামবাসী যা আশা করেছিলাম, তার চেয়ে বেশি তিনি করেছেন। দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় থাকায় উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে এই সরকার বারবার দরকার।

মোছলেম উদ্দিন বলেন, যারা প্রতিপক্ষ, তাদের অনুরোধ করব নির্বাচনে আসার জন্য। বিএনপির কাছে আহ্বান, জনগণের প্রতি আস্থা থাকলে সে শক্তিকে নির্বাচনে কাজে লাগান। নির্বাচন করবে নির্বাচন কমিশন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার উচ্চ আদালত বাতিল করেছে। গতবার তারা নির্বাচন কমিশনের অধীনেই নির্বাচন করেছে। আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তিকে মজবুত করতে হলে গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

রবিবারের জনসভায় অংশ নিতে আসার পথে মারা যান চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ইউনিয়ন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম বাচা (৪৭)। পলোগ্রাউন্ড মাঠে যাওয়ার পথে সদরঘাট এলাকায় হিট স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়।

বাচার মৃত্যুতে শোক জানান মোসলেম উদ্দিন আহমদ। আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, আজ নেতৃবৃন্দ উনার বাড়িতে যাবেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বাচার পরিবারকে ৫ লাখ টাকা প্রাথমিকভাবে দেয়া হবে। পরে প্রয়োজনে আরো দেয়া হবে।

জনসভা শেষে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা সাংগঠনিক বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দিয়ে গেছেন কিনা জানতে চাইলে নাছির বলেন, আমরা যারা দায়িত্বে আছি, আমাদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা আছে। একটা সংগঠনকে কীভাবে গোছাতে হয়, গতিশীল করতে হয় এবং ঐক্যবদ্ধ করতে হয়, এগুলো আমরা জানি। জানি বলেই গতকাল এত বিশাল জনসভার আয়োজন করতে পেরেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় বলেন, আমরা যাতে কর্মীমুখী হই। পাশাপাশি দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের কল্যাণে যেন ভূমিকা রাখি, এটা স্মরণ করিয়ে দেন। কালকেও বলেছেন, সামনে নির্বাচন। নির্বাচনে আমরা যেন সব আসনগুলো পাই। এটাই ছিল নির্দেশনা।

নাছির বলেন, চট্টগ্রামের বিগত ও এখনের নেতৃবৃন্দের প্রতি আলাদা একটা আস্থা এবং বিশ্বাস আছে। সাংগঠনিক অবস্থা কীভাবে আছে এটা তো কালকের জনসভায় উনি নিজেই দেখেছেন। এরপর আর উনার আলাদাভাবে কিছু নির্দেশনা দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না। সে কারণে হয়ত আর আলাদাভাবে উনি… । আর কিছুদিন পর আমাদের জাতীয় সম্মেলন। সেখানে যাব। আমাদের সাংগঠনিক বিষয়গুলো সেখানে তুলে ধরব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হয়ত ওখানে আমাদের জেলা পর্যায়ে নির্দেশনা দিবেন।

জনসভার কারণে নগরবাসীর চলাচলে ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

রবিবার জনসভার সংবাদ সংগ্রহে চট্টগ্রামের গণমাধ্যমকর্মীদের মিডিয়া সেন্টারে রাখার আশ্বাস দিয়েও পরে সে ব্যবস্থা করতে না পারায় এবং অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক।

এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন নগর, উত্তর ও দক্ষিণের শীর্ষ নেতারা।

অন্যদের মধ্যে নগর কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, উত্তরের সভাপতি এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রমিক নেতা সফর আলী ও দেবাশিষ পালিত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
চট্টগ্রাম ব্যুরো