বিএনপির কর্মীরা ঘরে না ফেরা পর্যন্ত রাজপথে থাকবে আওয়ামী লীগ

আজ বুধবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকাসহ দেশব্যাপী গণ-অবস্থান করবে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। যুগপৎ আন্দোলনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে এই গণ-অবস্থানের কথা জানায় তারা। তবে তাদের এই কর্মসূচির বিপরীতে সতর্ক অবস্থানে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। রাজধানীতে পৃথক দুটি শান্তি সমাবেশ করবে ক্ষমতাসীন দলটি। এছাড়াও সারাদেশে সতর্ক অবস্থানে থাকবেন যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলটির অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিএনপির কর্মীরা ঘরে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার কথা জানিয়েছেন তারা।

আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগসহ দেশের প্রতিটি ইউনিট, ওয়ার্ড, থানা, জেলা এবং স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান থাকবে। দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সব অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে থাকবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, অতীতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের কথা বলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। সে কারণে এবার অতীতের মতোই আমাদের নেতাকর্মীরা মাঠে সতর্ক অবস্থানে থাকবে। বিএনপির সব ষড়যন্ত্র আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবো।

জানা গেছে, বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ঢাকার প্রতিটি ওয়ার্ড, থানার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেবে দলটির নেতাকর্মীরা। ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে তৎপরতা বাড়াবে। এছাড়া জিরোপয়েন্ট, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, কল্যাণপুর, হাতিরপুল, জিগাতলা ও রাসেল স্কয়ার, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, আজিমপুর, সদরঘাট, সূত্রাপুর, শনির আখড়া, ধোলাইপাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় থাকবে তারা।

বুধবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশ করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। ‘সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে’ আয়োজিত এই কর্মসূচিতেও প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, মন্ত্রী ও এমপিরা উপস্থিত থাকবেন।

অবস্থান ও সমাবেশে নির্বাহী কমিটির সদস্য, সব থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও ইউনিটের নেতাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনাও দিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবু আহমেদ মন্নাফী বলেন, ইউনিট থেকে ওয়ার্ড, থানা থেকে মহানগর- সব স্তরের নেতাকর্মীরা সতর্ক থাকবে। আমরা সকাল থেকে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন ঘরে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত সতর্ক অবস্থায় মাঠে থাকবো।

এদিকে, বুধবার বিকাল ৩টায় মিরপুর ২ নম্বরে চিড়িয়াখানা রোডের ঈদগাহ মাঠে শান্তি সমাবেশ করবে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ। ‘বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে’ এই কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সমাবেশে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য, সব থানা, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও ইউনিট নেতাদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটির সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদকদের নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শেখ বজলুর রহমান বলেন, বিএনপি-জামায়াতের যেকোনো সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য মোকাবিলায় আমরা রাজপথে ছিলাম, আছি এবং থাকবো। তারা রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে দাঁতাভাঙা জবাব দেয়া হবে।

এদিন বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে নিজস্ব কর্মসূচি নিয়ে রাজপথে থাকবে যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার নেতাকর্মীরা। এরমধ্যে ঢাকা উত্তর যুবলীগ বেলা ১১টায় ফার্মগেটে এবং দক্ষিণের উদ্যোগে দুপুর ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম. বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বুধবার সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত শাহবাগ চত্বরে পৃথকভাবে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ‘সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের মদদদাতা, দুর্নীতিবাজদের পৃষ্ঠপোষক, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের হন্তারক, অশুভ ও অন্ধকারের শক্তি বিএনপি-জামায়াতের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র, অগ্নিসন্ত্রাসের প্রচেষ্টা ও সংবিধানবিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে’ এই কর্মসূচি পালিত হবে। এতে অংশ নিতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন তাদের যুগপৎ আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সে হিসেবে ১১ জানুয়ারি ঢাকাসহ সারাদেশে গণ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে সরকারবিরোধী সমমনা দলগুলো। এই কর্মসূচিকে ঘিরে দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করলে তা মোকাবিলা করার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

স্বাআলো/এসএ