মাগুরায় ১৫ গুণীজনকে শিল্পকলার সম্মাননা

মাগুরায় সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য জেলার ১৫ গুণীজনকে সম্মাননা দিলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমী। জেলা শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান মিলনায়তনে মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) রাত ৮টার সময় ব্যাপক আড়ম্বড়র অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মাগুরার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯ সালে বিশেষ অবদান রেখেছেন এমন ১৫ গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

মাগুরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদের এর সভাপতিত্বে আলোচনা ও গুণীজন সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাগুরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু নাসের বেগ।

বিশষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা পঙ্কজ কুন্ডু, স্থানীয় সরকার বিভাগর উপ-পরিচালক শাহাদত হাসন মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) কলিমুল্লাহ, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসির বাবলু, সিনিয়র সংগীত শিল্পী নজরুল ইসলাম টগর, প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শামীম খানসহ অন্যান্যরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

যে ১৫ জন সম্মাননা পেলেন তারা হলো- ২০১৭ সালে কণ্ঠসংগীতে অজিত কুমার রায়, লোকসংগীতে হাশেম আলী মোল্লা, যন্ত্রসংগীতে শিবুপদ সাহা, যাত্রাশিল্পে সুবল চন্দ্র বিশ্বাস, সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসাবে মায়া ভৌমিক, ২০১৮ সালে কণ্ঠসংগীতে আবু জাফর, লোকসঙ্গীতে আব্দুল লতিফ শিকদার, যন্ত্রসংগীতের দ্বীনবন্ধু কর্মকার, আবৃত্তিতে খান রকিবুল হক, সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পগোষ্ঠী মাগুরা জেলা শাখা, ২০১৯ সালে কণ্ঠসংগীতে বিপুল কুমার পাল, লোকসংগীতে সুকুমার জোয়ার্দার, যন্ত্রসংগীতে শংকর কর্মকার, যাত্রাশিল্পে স্বপন পান্ডে এবং সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে একে এম মোখলেছুর রহমানকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ঐতিহ্য তুলে ধরেন আলোচকরা। পরে জেলা কালচারাল অফিসার অনুপ চ্যাটার্জির পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় এবং বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

যাত্রাশিল্পে সম্মাননা পাওয়া স্বপন পান্ডে তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেন, পুরস্কার কর্মের মাধ্যমে আসে। সবাই কষ্ট করে জীবনে ভালো কিছু অর্জন করার জন্য এর জন্য প্রয়োজন পরিশ্রম। যে কাজ দ্বারা নিজের ও অন্যের ভালো হয় সেই কাজ করতে হবে। তাই যে কাজই করুন না কেন শুধু পুরস্কারের আশায় করলে হবে না সে কাজ অবশ্যই সৎ উদ্দেশ্যে করতে হবে।

সৃজনশীল সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে সম্মাননা পাওয়া একে এম মোখলেছুর রহমান বলেন, পুরস্কারের চেয়ে কাজটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই কাজকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। জীবনের লক্ষ্য অর্জন করাটাই একটি পুরস্কার।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবু নাসের বেগ বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধর চেতনায় নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে বাঙালি সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশের গুরুত্ব অপরিসীম। মাগুরা অনেক গুণী মানুষের জন্ম। আজ যে ১৫ গুণীজনকে সম্মাননা প্রদান করা হলো, তার সকলে প্রতিভাধর। আমার বিশ্বাস এই সম্মাননা তাদেরকে অনেক অনুপ্রেরণা এবং উৎসাহ জোগাবে। ভালো কাজে মানুষকে সম্মাননা এবং স্বীকৃতি দেয়া উচিত এবং এই কাজটিই করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

স্বাআলো/এসএস

.

Author
লিটন ঘোষ জয়, মাগুরা
জেলা প্রতিনিধি