চরম সংকটে খুলনার পোলট্রি খামারিরা

দফায় দফায় খাবার, মুরগির বাচ্চা, ভ্যাকসিনসহ ওষুধের দাম বাড়ায় চরম সংকটে খুলনার পোলট্রি খামারিরা। লোকসানে বন্ধ হয়ে গেছে জেলার চার শতাধিক ছোট-বড় খামার।

খুলনার লবণচরা এলাকার পোলট্রি ব্যবসায়ীদের দাবি, গত ছয় মাসের ব্যবধানে মুরগি পালনের জন্য বাচ্চাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের খাবার ও ওষুধের দাম বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। সেই সঙ্গে বেড়েছে শ্রমিক মজুরিও। যার কারণে সব মিলিয়ে আগের তুলনায় মুরগি উৎপাদনে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে পোলট্রি ব্যবসায়ীদের।

তবে উৎপাদন খরচ বাড়লেও ডিম ও মুরগি বিক্রিতে প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না খামারিরা। তাই বাধ্য হয়ে অনেকেই বন্ধ করে দিয়েছেন খামার। অনেকেই আবার আর্থিক ক্ষতির মধ্যেও খামার কোনোমতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চালু রেখেছেন।

এমনই একজন খামারি খুলনার লবণচরা এলাকার আব্দুল জলিল শেখ। ১১ বছর ধরে মুরগি পালন করেন তিনি। খামারের আয়েই চলে তার ও চার কর্মচারীদের পরিবারের জীবিকা। কিন্তু দিন পনেরো আগে ঠান্ডাজনিত রোগে হঠাৎ মারা যেতে শুরু করে খামারের মুরগি। দুদিনের ব্যবধানে খামারের ১ হাজার ৪৫০টি মুরগি মারা গেছে। সব হারিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ফিডের দাম প্রতি কেজিতে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। শীতের জন্য গত ৩ দিনে ৮ হাজার টাকার ওষুধ কিনতে হয়েছে। ১ হাজার মুরগিতে দেড় লাখ টাকা খরচ হলেও ডিম বিক্রি করে আয় হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে সম্ভাবনাময় এ শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারের ভর্তুকিসহ খামারিদের পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ এবং সহযোগিতার দাবি করেন খুলনা পোলট্রি ফিশ ফিড শিল্প মালিক সমিতির মহাসচিব এস এম সোহরাব হোসেন।

তবে খুলনার অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রঞ্জিতা চক্রবর্তী বলেন, নানা কারণে জেলার কিছু খামার বন্ধ হলেও খামারিদের প্রণোদনাসহ উদ্দীপনামূলক বেশ কিছু কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া খামারিরা শিগগিরই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, জেলায় নিবন্ধিত মুরগির খামার রয়েছে ৮৪টি এবং অনিবন্ধিত খামারের সংখ্যা ৪ হাজার ১৫০টি।

স্বাআলো/এসএস

.

Author
খুলনা ব্যুরো