আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাবেন না যারা, জানালেন শেখ হাসিনা

গত বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারী) রাতে আওয়ামী লীগের সংসদীয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংসদীয় কমিটির বৈঠকে প্রধান তাৎপর্য ছিলো সংসদ উপনেতা নির্বাচন করা। কিন্তু এই সংসদীয় কমিটির বৈঠকে শেখ হাসিনা আগামী নির্বাচনে কারা মনোনয়ন পাবেন, কারা মনোনয়ন পাবেন না তার একটি সুস্পষ্ট রূপরেখা দিয়েছেন।

সংসদীয় কমিটির সভায় বিভিন্ন সংসদ সদস্যরা প্রথমে বক্তব্য রাখেন।

বক্তাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক মন্ত্রী শাহজাহান খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, মোতাহার হোসেন, সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, বর্তমান হুইপ আতিউর রহমান আতিকসহ বেশ কয়েকজন। তারা তাদের বক্তৃতায় আবার নতুন করে বরাদ্দের দাবি করেন। দলের ভিতরে গ্রুপিংয়ের কথা বলেন এবং জাতীয় রাজনীতিতে সামনের দিনগুলোতে অশনি সংকেতের উপর আলোকপাত করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, দলের অনেক সংসদ সদস্য নানা রকম বক্তব্য দিয়েছেন। আমি সবার কথা শুনলাম। তারা এলাকার কথা বললেন, গ্রুপিংয়ের কথা বললেন। কেউ জাতীয় রাজনীতি নিয়েও কথা বললেন। এলাকার জন্য নতুন নতুন বরাদ্দের দাবি করলেন। কিন্তু একজনও গত ১৪ বছরে যে উন্নয়ন করেছি সে-কথা বলেনি। বিএনপি এবং জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনগুলো দেশ-বিদেশের সরকারের ডিজিটাল সুবিধা নিয়েছে অপপ্রচার করছে সেগুলোর জবাব কেউ দিলেন না। আগুন সন্ত্রাস নিয়ে কেউ কথা বললো না।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন, আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই এ বছর নতুন কোনো প্রকল্প হাতে নেয়া হবে না। গত ১৪ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার যে উন্নয়ন করেছে, আগামীতে ক্ষমতায় আসার জন্য সেটাই যথেষ্ট। এই উন্নয়নগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি এরপর আগামী নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ব্যাপারে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, প্রতি ৬ মাস পরপর প্রতিটি সংসদীয় আসনে জরিপ হচ্ছে এবং একটি জরিপের জন্য ৭০/৮০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি কারা মনোনয়ন পাবেন এবং কারা পাবেন না সে ব্যাপারে একটি সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো দেখা হবে তা হলো:

১. যারা এলাকায় নিয়মিত যান: আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, কে এলাকায় যান, কে যান না সব তথ্য আমার কাছে আছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে হলে এলাকায় যেতে হবে। অর্থাৎ যাদের সঙ্গে এলাকার সম্পর্ক নাই তারা এলাকায় যাবেন। আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, এরকম অন্তত ১২০ জন এমপি রয়েছেন যারা এলাকায় নিয়মিত যান না। এদের ক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২. দুঃসময়ের কর্মী: এবার মনোনয়নের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সভাপতি সবচেয়ে বড় চমক দেবেন দুঃসময়ের কর্মীদেরকে। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে তিনি কিছু ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছেন। বিভিন্ন উপনির্বাচন গুলোতে দুঃসময়ের কর্মীদেরকে মনোনয়ন দেয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেছেন, আগামী নির্বাচনে দলের পরীক্ষত, ত্যাগী কর্মীরা মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে যাবেন। এই বার্তাটি প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি খুব সূক্ষ্মভাবে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে সাফ জানিয়েছেন।

৩. এলাকায় যারা বিভক্তি তৈরি করেছে: এলাকায় যারা বিভক্তি করেছে, মাই ম্যান তৈরি করেছে, তাদেরকে মনোনয়ন দেয়া হবে না এবং এ ব্যাপারে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

৪. যারা নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত: সংসদ সদস্য হয়ে যারা শুধু সংসদে আসা-যাওয়া করেন, বরাদ্দ পাওয়ার চেষ্টা করেন তাদেরকে বরাদ্দ পাওয়া এবং বিভিন্ন রকম নিজেদের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন তাদেরকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হবে না। এই বার্তাটিও আওয়ামী লীগ সভাপতি সুস্পষ্টভাবে দিয়ে দিয়েছেন।

৫. যারা এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে: এলাকায় যাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস এবং আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে তাদেরকে আগামী আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া হবে না বলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সুস্পষ্টভাবে বার্তা দিয়ে দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে, সারাদেশে আওয়ামী লীগের জরিপে অন্তত ১২০ জন এমপি এরকম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নির্বাচন এখনো অনেক দেরি। এই সময়ের মধ্যে যারা পরিস্থিতির উন্নতি করতে পারবে তারা হয়তো আবার মনোনয়ন দৌড়ে ফিরে আসতেও পারে।

স্বাআলো/এসএ