প্রধান শিক্ষক নিয়োগে সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

ঝিনাইদহের শৈলকুপা হাটফাজিলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সভাপতির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবৎ অত্রপ্রতিষ্ঠানে প্রধানশিক্ষকের পদটি ফাঁকা রয়েছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। এমতাবস্থায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ২৭ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ছিলো চলতি বছরের ১০ জানুয়ারী। অফিস চলাকালীনের মধ্যে শর্তসাপেক্ষে প্রার্থীরা আবেদনপত্র ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের নিকট জমা দেয়ার কথা ছিলো। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের ১টি পদের বিপরীতে মাত্র ২টি আবেদনপত্র জমা পড়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদে ২টি আবেদনপত্র জমা হয়েছে। যা তিনি স্বাক্ষর করে প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশন খাতায় অর্ন্তভূক্ত করেছেন। আবেদনকৃতরা হলেন আক্কাস আলী ও মশিউর রহমান। নিদিষ্ট সময় শেষে আর কারও আবেদন পত্র জমা নেয়ার সুযোগ নেই। তবে আবেদনকৃত ২ জন প্রার্থীর পরীক্ষা গ্রহণের এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এমন সিদ্ধান্ত হলে পরবর্তীতে জানানো হবে।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ওই এলাকার একব্যক্তি জানান, আবেদনের তারিখ শেষ হওয়া পর্যন্ত ২ জন প্রার্থী আবেদনপত্র জমা দিয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মানিক মোল্লা জোরপূর্বক তার পছন্দের প্রার্থীকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেয়ার পায়তারা করছে। অথচ ওই প্রার্থী অদ্যবদি প্রতিষ্ঠানে কোনো আবেদন পত্রজমা দেয়নি। লোক মুখে শোনা যাচ্ছে তার পছন্দের প্রার্থীর আবেদন পত্রটি নিজেই পকেটস্থ করে রেখেছেন। এছাড়াও আবেদনের সময় শেষ হওয়ার পরেও তার পছন্দের প্রার্থীর আবেদন জমা নেয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে চাপ সৃষ্টি করছেন।

প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মানিক মোল্লা বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে ২ জন নয় ৬ জনের আবেদন জমা পড়েছে। একটি মহল আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরর জন্য জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছে সচেতনমহল।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মনিরুল ইসলাম জানান, মৌখিক অথবা লিখিত অভিযোগ পাই নাই। যদি কেই অভিযোগ দেয় তাহলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো প্রকার অনিয়ম করার সুযোগ নেই বলেও জানান।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
জেলা প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ