সড়কে প্রাণ ঝরেই চলেছে

১৩ জানুয়ারি যশোর-ঝিনোইদহ ও শেরপুরে তিনটি মর্মান্তিক দুঘংটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার তাজপুর গ্রামের রুহুল কুদ্দুসের স্ত্রী শিরিনা আক্তার স্বামীর মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গেলে একটি ট্রাক তাকে পিষ্ট করে।

ট্রাকের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিকশার পিতাপুত্রসহ তিন যাত্রী নিহত হয়েছেন শেরপুরে। আহত হয়েছেন আরো তিনজন।

নিহতরা হলেন, নালিতাবাড়ীর তিনআনীর রফিক মিয়া ও তার ছেলে রাব্বি। নিহত অপরজনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

যশোরে স্বামীর মোটরসাইকেল থেকে পড়ে ট্রাকের ধাক্কা, প্রাণ গেলো অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর

ঝিনাইদহের মহেশপুরে বুদো মণ্ডল (৭২) মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন।

স্বজন হারানোর বেদনা কতটুকু তা যারা এ ব্যথায় ব্যথিত তারা ছাড়া আর কেউ অনুভব করতে পারবে না। যদি স্থানীয় জনতা উত্তেজনাবশত ওই ঘাতক বাহন ভাঙচুর করে বসতো তাহলে পরিবহন শ্রমিকরা রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতো।

ভাঙচুরের অপরাধে পুলিশ মামলা করতো এলাকার সাধারণ নিরীহ মানুষের নামে। মানুষ খুন করেও পরিবহন শ্রমিকরা শেষমেষ পার পেয়ে যেতো এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে হচ্ছেও তাই।

ট্রাকের ধাক্কায় বাবা-ছেলেসহ নিহত ৩

তারা জোর গলায় বলবে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য একা শ্রমিকরা দায়ী নয়। এ জন্য পথচারীরাও দায়ী। এ ক্ষেত্রে আমরা বলতে চাই পরিবহন শ্রমিকদের কথা ঠিক হলে সারা বিশ্বের অন্যান্য দেশেও বাংলাদেশের মতো সড়ক দুর্ঘটনা হতো। কিন্তু সেটা কি হয়? ওই সব দেশের শ্রমিকদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতা আছে। আমাদের দেশে এ সব কিছুই নেই। এ কারণে ফ্রিস্টাইলে ঘটে চলেছে সব কিছু।

এক একটি দুর্ঘটনা ঘটে আর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় অপরাধী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু সে ব্যবস্থা আর জনসাধারণ চোখে দেখে না। আমরা জানিনে আর কত প্রাণ এভাবে গেলে পরিবহন শ্রমিকরা নিয়ন্ত্রণে আসবে। বন্ধ হবে তাদের বেপরোয়া ভাব।

স্বাআলো/এস

.