কয়লার সংকট, উৎপাদনে যেতে পারছে না রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরুর প্রথম মাসেই কয়লা সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে। ডলারের সংকটে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) বা ঋণপত্র খুলতে না পারায় কয়লা আমদানি করতে না পারায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

উৎপাদন শুরুর মাত্র ২৭ দিনের মাথায় শনিবার সকাল থেকে কয়লা না থাকায় রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৬৬০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার প্রথম ইউটিনটি বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ বিনিয়োগে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় অবস্থিত ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দুটি ইউনিট নির্মাণ করে।

এর মধ্যে কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট থেকে গেলো বছরের ১৭ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। নিয়মিত ৫৬০ থেকে ৫৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিলো কেন্দ্রটি। চলতি বছরের মাঝামাঝি কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাওয়ার ঘোষণা ছিলো।

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নামে পরিচিত বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আনোয়ারুল আজিম রবিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে সাংবাদিকদের ‘কয়লা না থাকায় বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিআইএফপিসিএল সূত্রে জানা গেছে, ডলার সংকটের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক কয়লা আমদানির ঋণপত্র (এলসি) খোলার অনুমোদন না দেয়ায় কয়লা আনতে পারছে না তারা। ঋণপত্র খুলতে না পারার বিষয়টি চিঠি দিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (বিপিডিবি) জানানো হয়েছে।

একাধিক বার বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় কাগজ পত্রও সরবারাহ করেছেন তারা। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কেন্দ্রিয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন। তবে বিষয়টির সুরাহা না হওয়াতে তারা কয়লা আমদানি করতে পারেনি। ফলে গত শনিবার কেন্দ্রের কয়লার মজুদ সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যায়। এ কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। কয়লা না পাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করার আর সুযোগ নেই।

ওই সুত্রটি জানায়, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে ঢাকায় দৈনিক প্রায় ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। বাকি বিদ্যুৎ খুলনায় সরবরাহ করা হতো। গত সপ্তাহে কারিগরি ত্রুটির কারণে একদিন রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ থাকায় ঢাকার কিছু এলাকায় লোডশেডিং করতে হয়েছিল। বিআইএফপিসিএলের ডিজিএম আনোয়ারুল আজিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা পেমেন্ট করতে পারছিনা, এজন্য আমরা কয়লা পাচ্ছি না। নিয়মিত উৎপাদনের জন্য আমাদের প্রায় ৫ হাজার মেট্টিক টন কয়লা লাগে।

কয়লা না থাকায় কেন্দ্রটি এখন বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ থাকলেও চুক্তি অনুযায়ী বিপিডিবিকে কেন্দ্রের সক্ষমতা ব্যয় বা ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হবে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য সুন্দরবনের কাছাকাছি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিবেশগত নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে শঙ্কা জানিয়ে আসছে পরিবেশকর্মী ও সচেতন মহল।

এ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করা কয়লা সুন্দরবনের অন্যতম পশুর নদ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

স্বাআলো/এস

.

Author
আজাদুল হক, বাগেরহাট
জেলা প্রতিনিধি