চৌগাছায় সভাপতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন সহকারী প্রধান শিক্ষক!

সভাপতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যশোরের চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের মাড়ুয়া ইউসুফ খান স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি আজাদ রহমান খানকে প্রথম মির্টিংসহ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করতে দিচ্ছেন না সহকারী প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম।

নিজেকে অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দাবি করে নিয়মিত গভর্নিং বডির সভাপতিকে উপেক্ষা করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতি স্বাক্ষরে শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন ওই শিক্ষক। অভিযোগ উঠেছে তিনি প্রতিষ্ঠানের ফান্ডের অর্থও তছরুপ করছেন। শিক্ষাবোর্ডের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য ভুক্তভোগি সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে সভাপতি আজাদ রহমান খান জানান, ২০২২ সালের ১৬ মে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের ৩৭.১১.৪০৪১.৪৪১.১১.০০১.২০.৯৫২ নম্বর স্বারকে এক পত্রের মাধ্যমে তিনি মাড়ুয়া ইউসুফ খান স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পান।

শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইডে গভর্নিং বডির আবেদনের আইডি ১৪৯২৯ ও পাসওয়ার্ড ৬৭৬৩১৪। ওই সময় প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ছিলেন ফজলুর রহমান। মূলত প্রতিষ্ঠানটি মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিওভুক্ত। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিও ও একাডেমি স্বীকৃতি হয়নি।

তাই প্রধান শিক্ষকই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষাবোর্ড থেকে গর্ভর্নিং বডির চিঠি হওয়ার কিছু দিনের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অবসরে যান। তারপর সহকারী প্রধান শিক্ষক গভর্নিং বডির অনুমোদন ছাড়াই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। যার কোনো আইনি বৈধতা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ভুল বুঝিয়ে প্রতি মাসে বেতন বিলে স্বাক্ষর করিয়ে নিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানের অর্থও তসরুপ করছেন। ইচ্ছামত অতিরিক্ত হারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন ও পরীক্ষার ফিশ আদায় করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আজিজুর রহমান জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ধুরন্দর ব্যক্তি। তিনি সভাপতিকে উপেক্ষা করে নানা অজুহাতে প্রতিষ্ঠানের অর্থ তসরুপ করছেন। সভাপতিকে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে দিচ্ছেন না। তার বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।

সোহরাব হোসেন নামে একজন অভিভাবক জানান, সহকারী প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম গায়ের জোরে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। তিনি সভাপতিকে মানছেন না। নিয়মিত গভর্নিং বডি থাকা স্বত্ত্বেও তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দিয়ে বেতন বিলে স্বাক্ষর করিয়ে নিচ্ছেন। তারজন্য প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌছে যাচ্ছে।

এলাকার মশিয়ার রহমান, আব্দুস সামাদ, ইউসুফ আলী ও বজলুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন একই অভিযোগ করেন। তারা সবাই অভিযুক্ত শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইরুফা সুলতানা বলেন, সহকারি প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম একজন প্রতারক ও মিথ্যাবাদী। তাকে বুঝিয়েছেন প্রতিষ্ঠানে কোনো গভর্নিং বডিই নেই। সেই জন্য তিনি বেতন-বিলে প্রতি স্বাক্ষর করছেন। ভুল বুঝে তিনি স্বাক্ষর করেছেন। পরবর্তীতে তিনি নতুন করে কোনো বেতন-বিলে স্বাক্ষর করবেন না। তদন্ত করে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যশোর শিক্ষাবোর্ড ও যশোর জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে অবহত করবেন।

স্বাআলো/এস

.

Author
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর