শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সভাপতির অর্থলোলুপতা

ঝিনাইদহের শৈলকুপা হাটফাজিলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সভাপতির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। আবেদনের তারিখ শেষ হওয়া পর্যন্ত দুইজন প্রার্থী আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের সভাপতি জোরপূর্বক তার পছন্দের প্রার্থীকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেয়ার পায়তারা করছেন। অথচ ওই প্রার্থী অদ্যবদি প্রতিষ্ঠানে কোনো আবেদনপত্র জমা দেয়নি। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরর জন্য জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছে সচেতনমহল।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে আছে যেন বর্তমান পদ্ধতির ম্যানেজিং কমিটি। কাজ নেই, কর্ম নেই, উন্নয়নের ভাবনা নেই, শিক্ষার্থী সংগ্রহের চিন্তা নেই, রেজাল্ট ভালো-মন্দের দায়-দায়িত্ব নেই, স্টাফের বেতন-ভাতা দেবার দায়বদ্ধতা নেই, কাজের নামে আছে শুধু সরকারি যে সব বরাদ্দ আসে তা চেটে পুছে খাওয়া। এক সময় নিয়োগ বাণিজ্য ছিলো বড় ব্যবসায়। তখন তারা টাকার লোভে মেধাবীদের বাদ দিয়ে মেধাহীন অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান নাজুক করে তোলে । এখন সেটা নেই। মাঝে কিছু দিন এনটিআরসি শিক্ষক নিয়োগ দেয়ায় সে ব্যবসায় ভাটার টান পড়ে। কিন্তু চাটা যাদের অভ্যাস তারা বুদ্ধি একটা বের করে ফেলেই। ফরমান জারি করলো, সরকার নিয়োগ দিয়ে পাঠিয়েছে তাতে কি হয়েছে। যিনি যোগদান করতে আসবেন তাকে ক্ষতি পুষিয়ে দিতে হবে। নতুবা যোগদান করতে দেয়া হবে না। হয়েছেও তাই। চাকরির একটা প্রয়োজন তাই ঘটি-বাটি, ঝুলি কাঁথা বেচে অথবা শেষ সম্বল অন্য কিছু খুইয়ে ম্যানেজিং কমিটির ক্ষতি পোষাতে হয়েছে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ অবস্থা চলছে। আমরা মনে করি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি করার ক্ষেত্রে গুণীজনদের বাছাই করা উচিত। এ ক্ষেত্রে প্রাইমারির কমিটি করার ক্ষেত্রে হাই স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, হাই স্কুলের ক্ষেত্রে কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এবং কলেজের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের কোনো পদস্থ কর্মকর্তাকে সভাপতি করা বাঞ্চনীয়। যদি এমন হয় যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় এমন ব্যক্তি নেই তাহলে বিকল্প হিসেবে অনুরূপ ব্যক্তি নির্বাচন করা যেতে পারে। এটি একটি প্রস্তাবমাত্র। এর চেয়ে উত্তম কোনো পথ থাকলে সেটাও করা যেতে পারে। মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান পরিচালনা দায়িত্ব গরু পেটানো রাখাল মানের ব্যক্তির ওপর অর্পণ করা উচিত নয়।

স্বাআলো/এসএস

.