বেনাপোল সীমান্তবর্তী এলাকায় শীতের দাপটে বিপর্যস্ত জনজীবন

এলো মাঘের দিন। দিনপঞ্জির হিসেবে পৌষ শেষে এবার মাঘের স্বাদ আস্বাদনের পালা। আজ পহেলা মাঘ। ষড়ঋতুর হিসেবে পৌষ-মাঘ শীতকাল। পৌষের শেষ পেরিয়ে ‘পৌষের শীত তোষের গায়, মাঘের শীতে বাঘ পালায়’ প্রবাদটির সাথে এবারের শীতের মিল খুঁজে পাওয়া গেছে যশোরের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে। পৌষের প্রায় পুরো সময় জুড়ে শীত তার আসল রূপে ছিলো বলা চলে। পৌষ গ্রামীণ জনপদ থেকে শুরু করে শহর সকল স্থানেই তার প্রভাব বিস্তার করেছে সমানভাবে। এবার বাঘ কাঁপানো মাঘের শীতের দিন।

উত্তরের হিমশীতল হাওয়ায় গত কয়েকদিন ধরে এ অঞ্চলে সর্বত্র ঘনকুয়াশাসহ শীত জেঁকে বসেছে। পৌষের শেষে মাঘের শুরুতেই দাপটে কাঁপছে দক্ষিণের জেলা যশোরের শার্শা-বেনাপোল। ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। শীতের তীব্রতা বাড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে। বন্দরে পণ্য লোড আনলোড ব্যাহত হচ্ছে। যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহনগুলো। ট্রেনও আসছে অনেক দেরিতে। কুয়াশার কারণে ট্রেনের সিডিউল ঠিক থাকছে না।

কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে সারাদিন।উত্তরের হিমেল হাওয়া শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে অনেক নিম্নবিত্ত মানুষ। দৈনন্দিন কাজে বের হতে পারছে না অনেকে। শীতবস্ত্রের অভাবে কষ্ট পাচ্ছে দরিদ্র ছিন্নমূল মানুষ। শীতের তীব্রতায় এ অঞ্চলের খেটে খাওয়া মানুষগুলো কাহিল হয়ে পড়েছে। দিন আনা দিন খাওয়া শ্রমিকের দল যেন থমকে দাঁড়িয়েছে। দিন-রাতের তাপমাত্রা কমছে ক্রমেই। সব মিলিয়ে বাঘ কাঁপানো মাঘেরই আভাস দিচ্ছে।

হঠাৎ হাড়কাঁপানো শীতে দুর্ভোগে পড়েছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। বেলা বাড়লেও ঘর থেকে বের হতে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের। তীব্র শীতে কাহিল হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে বেনাপোল স্থলবন্দরে কর্মরত শত শত শ্রমিকরা পণ্য লোড আনলোডে মারাত্মক সমস্যায় পড়ছে। কনকনে শীতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়ছে।

ফুটপাতের দোকানদারদের সথে কথা বলে জানা যায়, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রেতারই বেশি। তবে সেই সাথে ভ্যানচালক, রিকশাচালক, দিন মজুরসহ হতদরিদ্র ও শীতার্ত মানুষরাই এখান থেকে শীতবস্ত্র কিনছেন।

শীত বস্ত্র কিনতে আসা জমির হোসেন এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তিনদিন থেকে সূর্যের দেখা নেই, কোন কাজ কর্ম নেই। সারাদিন বাসায় থাকতে হয়। শীত নিবারনের জন্য কমদামে গরম কাপড় কিনতে আসছি।

কাগজপুকুরের ভ্যানচালক মাহাবুব বলেন, গত তিন-চারদিন যে পরিমাণ শীত পড়ছে তাতে বাইরে ভ্যান চালানো কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু ভ্যান না চালালে ভাত জুটবে না, তাই বাধ্য হয়ে পথে নামতে হয়েছে। এদিকে, শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির ফলে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জ্বর, হাঁচি, কাশিসহ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। অপর দিকে শীতের কারণে সারাদিনই গরম পোশাক পরে মানুষজনকে চলাচল করতে দেখা যায়। সন্ধ্যার পর বন্দর এলাকা অনেকটাই শূন্য হয়ে পড়ছে। শীতকালীন রোগবালাই থেকে রক্ষা পেতে গরম পানি পান করাসহ গরম কাপড় ব্যবহারের জন্য পরামর্শ দিচ্ছে চিকিৎসকরা।

শার্শা উপজেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার ইউসুফ আলী বলেন, শীতজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। রোগীর চাপ থাকলেও হাসপাতালে চিকিৎসা দিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

স্বাআলো/এসএস

.

Author
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি