ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আবারো সংঘর্ষ, ১৩ দোকানে আগুন

ফাইল ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মধ্যে বিরোধের জেরে তিন দিন পর আবারো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (১৮ জানুয়ারী) সকালের দিকে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে দুপক্ষের সংঘর্ষে বাজারের ১৩টি দোকানে আগুন দেয়া হয়। এ ছাড়া উভয়পক্ষের বাড়িঘরেও হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষে এদিন উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন সংঘর্ষের বিষয়টি জানিয়েছেন।

জয়নাল আবেদীন বলেন, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলার আশুগঞ্জ উপজেলা সদরের রেলগেট থেকে স্কুলছাত্র রিমন সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে দুর্গাপুর গ্রামে আসেন। এ সময় চালক রুহুল আমিন ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে কথাকাটির একপর্যায়ে রিমনকে মারধর করেন রুহুল। রিমন বিষয়টি তাদের দুর্গাপুর গ্রামের মেম্বার মিজান মিয়াকে জানান। মেম্বার বিষয়টি দুর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাসেল মিয়াকে জানালে ফেরার পথে মেম্বারের ওপর হামলা চালায় চেয়ারম্যানের লোকজন। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে মেম্বারের হাজী বংশ ও চেয়ারম্যানের জারু মিয়ার বংশের লোকজন সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। এ সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন আহত হন।

পরদিন শনিবার আবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দুই বংশের লোকজন দফায় দফায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। দুপুর ১টা পর্যন্ত চলা সংর্ঘষে আরো ৩০ জন আহত হয়। পরে সংঘর্ষটি পুরো গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে।

একসময় উভয়পক্ষের পক্ষে গ্রামের অন্য বংশগুলো সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। হাজী বংশের পক্ষে মোল্লাবাড়ি, হাজী ইউসুফ পাড়া ও শরিয়ত উল্লাহ পাড়া এবং জারু মিয়া বংশের পক্ষে নজর বাড়ি, মুন্সিবাড়ি, বামুমুন্সির বাড়ি ও নূরারপাড় বাড়ি লোকজন অংশ নেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

জয়নাল আবেদীন বলেন, পূর্বের ঘটনার জের ধরে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের গোষ্ঠীর লোকজন আজ সকালে আবারো সংঘর্ষে জড়ায়। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে মেম্বারের গোষ্ঠীর একজনকে গুরুত্বর অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ সময় স্থানীয় বাজারের ১৩টি দোকানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে দমকল বাহিনীর সদস্যরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আশুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবরে আমরা সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে নিই। মুদি, ফার্মেসিসহ আরো ১৩টি দোকান অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়েছে। আমাদের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের দমকল বাহিনীর দল অংশগ্রহণ করে।

এসপি জয়নাল আবেদীন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আশুগঞ্জ থানা পুলিশকে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া সংঘর্ষ এড়াতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া