চুয়াডাঙ্গায় শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু জনজীবন, হাসপাতালে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগী

তীব্র শীতে জবুথবুু হয়ে হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গাবাসি। বিপর্যস্ত চুয়াডাঙ্গা জনপদের মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। পৌষের প্রথম থেকেই শীত পড়া শুরু করে আজ পর্যন্ত শীত একেই ভাবে পড়ছে। গত সোমবার থেকে সূর্যের দেখা নেই বললেই চলে । উত্তরের হিমেল হওয়ার প্রভাবে জেলার উপর দিয়ে মৃদু শৈত্য প্রবাহ অব্যাহত আছে। এতে কাহিল হয়ে পড়েছে এ জনপদের আপামর মানুষ। জবুথবু জীবন করছে এ জনপদের মানুষ।

ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে বেড়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স‚র্যের দেখা মিললেও শৈত্যপ্রবাহের কারণে কমেনি শীতের দাপট। ফলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ এলাকার মানুষ। তীব্র শীত উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে বের হওয়া খেটে খাওয়া মানুষ পড়েছেন বিপাকে। খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন শীতার্ত মানুষ।

বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) সকাল ৯ টায় চুয়াডাঙ্গায় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। গত ১৬ জানুয়ারী তাপমাত্রা ছিলো ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। সে হিসেবে তিনদিনের ব্যবধানে প্রায় সাড়ে ৪ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমেছে।

এদিকে, তীব্র শীতের কারণে হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা হাসপাতালে ভিড় করছে নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে। প্রতিদিন চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে বহির্বিভাগে শিশুসহ প্রায় ৪০০ রোগী ঠান্ডাজনিত কারণে আউটডোরে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আতাউর রহমান।

বৃহস্পতিবার ভোরে চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারে কাজের সন্ধানে আসা কয়েকজন দিনমজুর জানান, তীব্র শীতে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। যেন বরফ পড়ছে। মনে হচ্ছে একটা আস্ত ফ্রিজের মধ্যে রয়েছি। তারপরও থেমে নেই কাজ। বাধ্য হয়েই কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে। শীতে কাজ না পেয়ে বাড়িতে ফিরতে হচ্ছে অনেকেরই।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল হাসান বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিলো ৯৪ শতাংশ। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত আছে।

স্বাআলো/এসএস

.

Author
মফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দার, চুয়াডাঙ্গা
জেলা প্রতিনিধি