অভিশপ্ত বেকারত্ব দূর করতে হবে

চাকরি না পেয়ে এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে হতাশাগ্রস্থ হয়ে গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান (২৭)।

তার বাড়ি যশোরের চৌগাছা উপজেলার জলকার-মাধবপুর গ্রামে । সম্প্রতি প্রকাশিত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে ভাইভা দিয়েছিলেন হাবিবুর রহমান। তবে প্রতিবন্ধী কোটা থাকলেও চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হননি তিনি। তবে বন্ধুদের চাকরি হয়েছে। এনিয়ে তার মধ্যে হতাশা ছিলো।

দেশে বেকারত্বের হার দিন দিন বাড়ছে। দক্ষ অদক্ষ বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে প্রতিনিয়ত। যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছেন না দেশের শিক্ষিত যুব সমাজ। যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল একটি দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ।

চাকরি না পেয়ে হতাশায় চৌগাছায় জাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

৫ বছর আগের এক জরিপে দেখা যায়, দেশে বেকারের সংখ্যা ছিলো ২৬ লাখ। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ছিলো ১৪ লাখ ও নারীর সংখ্যা ছিলো ১২ লাখ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক জরিপে দেখা যায় জাতীয় বেকারত্বেও হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। এর মধ্যে উচ্চ শিক্ষিত বেকারত্বের হার সবচেয়ে বেশি। তারা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি না পাওয়ায় দেশের অর্থনীতিতে কোনো ভূমিকা পালন করতে পারছেন না।

এক তরুণ তার হৃদয় উৎসারিত এক আর্তিতে উল্লেখ করেছেন, উচ্চশিক্ষা যেনো তাদের চাকরি পাওয়ার নিশ্চিয়তা দিতে পারছে না।

অধিকাংশ শিক্ষিত তরুণরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী চাকরি না পেয়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিনিয়ত দেশ থেকে বিদেশে মেধা পাচার হয়ে যাচ্ছে। ফলে দেশ হয়ে যাচ্ছে মেধাশূন্য। এমনকি তারা বিদেশে চাকরি নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস করার পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন। আবার অনেকে বেকারত্বেও অসহ্য যন্ত্রণা সইতে না পেরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন।

পরিবার ও সমাজের ধিক্কারের কাছে অবশেষে তাদেরকে হেও হয়ে যেতে হচ্ছে। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র তাদেরকে বোঝা মনে করে। এমনকি ব্যক্তি জীবনও হয়ে ওঠে দুঃসহ। ফলে রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বত্র দেখা দিচ্ছে বিশৃঙ্খলা। সর্বোপরি তরুণ শিক্ষিত সমাজ বেকারত্বের এক বেড়াজালে আবদ্ধ। দেশের প্রতিটি শিক্ষিত যুবক তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। ক্রমবর্ধমান এই সমস্যা সমাধানে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে অর্থনৈতিক কাঠামো ও সামাজিক জীবন ব্যাহত হবে। তাই দেশের শিক্ষিত তরুণ সমাজকে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে হবে। তারা যেনো সমাজ ও রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ভূমিকা পালন করতে পারে।

চাকরিটা কিন্তু এখনো সোনার হরিণই থেকে গেছে। বেকাররা যাতে সহজে চাকরিতে ঢুকতে পারে সে ব্যবস্থা সরকারকে নিতে হবে। নতুবা বেকারত্বের ভারে দেশটা ভারাক্রান্ত হয়ে পড়বে।

স্বাআলো/এস

.