আকাশদের পাশে দাঁড়াতে হবে

আট বছরের শিশু আকাশ মসজিদের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে এখন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। দুদিন হলো সে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। মাথায় প্রচণ্ড আঘাত এবং রক্তক্ষরণ হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। যশোর শহরের বেজপাড়া কবরস্থান রোডের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন আকাশ ও তার মা। আকাশের পিতা সিরাজুল ইসলাম মাস দুয়েক আগে মারা গেছেন। তার মা বাড়িতে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। চোপদারপাড়া মসজিদের পাশের একটি দোতলা বাড়িতে ২০ জানুয়ারী কাজ করতে যায় তার মা। সে সময় আকাশ অসাবধানবশত বাড়ির ছাদ থেকে নিচে পড়ে যায়।

যশোরে তার চিকিৎসা সম্ভব নয় বলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে আচেতন অবস্থায় পড়ে আছে আকাশ। তার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। কিন্তু তার গরিব মা অর্থ জোগাড় করতে পারছেন না। তাই তিনি সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন করেছেন। ছোট ছোট সহযোগিতায় যদি সাধারণ মানুষ এগিয়ে আসে তাহলে তার শিশু সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। আকাশের জন্য সাহায্যের ঠিকানা-ফিরোজ আলম, মায়ের দোয়া জুয়েলার্স, বেজপাড়া তালতালার মোড়, যশোর। বিকাশ নম্বর-০১৯৩৭-৫৮৬৮১৯।

আকাশ অন্ধের যষ্ঠির মতো তার মাতার একমাত্র অবলম্বন। আকাশ ও তার অসহায় মার মতো শত অসহায় নিরুপায় মানুষ দেশে আছে। কিন্তু স্বামীহারা ওই নারীর মত অসীম ধৈর্য ও নিষ্ঠা কতজন নারীর আছে। আমরা যখন দেখি মা-বাবার টাকার শ্রাদ্ধ করে লেখাপড়া শেখার নামে ছেলে-মেয়েরা বইয়ের বোঝা ঘাড়ে করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পথে নামেমাত্র চলে, আসলে চলে তারা অন্য পথে। ফেসবুক দেখে এবং প্রেম-পিরিত করে বাড়ি ফেরে তখন জাতির ভবিষ্যৎ ভেবে হতাশ হই। ঠিক পাশাপাশি আকাশের ছবিটা সামনে আসলে আশায় বুক ভরে ওঠে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসব আকাশ যারা আছে শত ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে তারা পারবে কি তরি কূলে ভেড়াতে। না পারারই কথা। এ অবস্থায় এসব উদীপ্ত শিশু-কিশোর-তরুণদের সহযোগিতায় সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা মনে করি এরাই জাতির ভবিষ্যৎ। এরা পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দেশের জন্য অনেক কিছু করতে পারে।

.