ভারতে পেঁয়াজের কেজি ১৫ রুপি, বাংলাদেশে ৭৫ টাকা

বাংলাদেশের বাজারে যখন পেঁয়াজের ঝাঁজে বেকায়দায় ভোক্তারা, তখন প্রতিবেশী ভারতের কলকাতায় দাম তলানিতে থাকায় ক্ষুব্ধ কৃষকরা। ভারতে গত বছর এ সময় প্রতিকেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ রুপিতে। এবার তা নেমে এসেছে ১৫ থেকে ২০ রুপিতে। আর বাংলাদেশে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম ঠেকেছে ৭৫ টাকা।

মঙ্গলবার (২৩ মে) কলকাতার সিআইটি রোডের বাজারের সরেজমিন চিত্র বাংলাদেশের পেঁয়াজের বাজারের ঠিক উল্টো।

কলকাতায় পেঁয়াজের বাজার বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে। চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাঙালির নিত্যদিনের রান্নার এ গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের দাম অনেকটাই কম। গত বছর এই সময়ে যে পেঁয়াজ প্রতিকেজি ৪০ থেকে ৪৫ রুপি বিক্রি হয়েছে, সেটি বর্তমানে মাত্র ১০ থেকে ২০ রুপি।

এই বাজারের এক পেঁয়াজ বিক্রেতা বলেন, চলতি বছর ভারতে প্রচুর পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। এককালে দক্ষিণ ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিক পেঁয়াজের একমাত্র উৎস ছিলো। তবে এখন উত্তর ও পূর্ব ভারতের বহু রাজ্যে মানসম্মত পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে। তাই পেঁয়াজের বাজার স্থিতিশীল বহুক্ষেত্রে কম দামেও বিক্রি হচ্ছে। তারপরও পুঁজি ঘরে তোলার কারণে খুশি বিক্রেতারা।

পেঁয়াজের দাম নিয়ে এক ক্রেতা বলেন, গত বছর এই সময় পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ রুপিতে বিক্রি হয়েছে। সেখানে এবার পেঁয়াজের দাম সহনশীল পর্যায়ে রয়েছে।

এমনকি তাদের কেউ কেউ বলছেন, বাজারে যে পরিমাণ পেঁয়াজ উঠেছে, তাতে সামনে পেঁয়াজের দর আরো কমতে পারে।

যদিও কলকাতার পেঁয়াজের বাজারে দেখা মেলে ভিন্ন চিত্রেরও। ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, ভালো মানের পেঁয়াজ ২০ থেকে ২৫ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে কম মানের পেঁয়াজ আরো কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।

যার সত্যতা মেলে ফুটপাতের দোকানগুলোয়। বাজারের ভেতরে যেখানে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১৫ থেকে ২০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে, সেখানে রাস্তায় বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১০ থেকে ১২ রুপিতে।

দামের পার্থক্যের বিষয়ে ফুটপাতের এক পেঁয়াজ বিক্রেতা বলেন, বাজারের ভেতরে ব্যবসায়ীরা দোকান ভাড়া দিয়ে বসেন। ফুটপাতে ভাড়া দিতে হয় না। তা ছাড়া প্রচুর গরমে বস্তা বস্তা পেঁয়াজ নষ্ট হচ্ছে। সেই ভয়ে অনেক পাইকারি আড়তদার কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।

তবে বাজারের ভেতরের তুলনায় ফুটপাতের পেঁয়াজের মান একটু নিম্নমানের বলেও স্বীকার করেন বিক্রেতারা। তারা জানান, চলতি বছর পেঁয়াজের উৎপাদন বেশি হওয়ায় সঠিক দাম না পাওয়ায় প্রতিবাদে লাখ লাখ টন পেঁয়াজ পচে নষ্ট হচ্ছে। নাসিকের হাজার হাজার পেঁয়াজ চাষিও বেশ কয়েক মাস ধরে প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছেন।

কৃষকদের দাবি, পেঁয়াজের এত ফলন হয়েছে যে মাত্র ৫ রুপি কেজি দরে কৃষকদের কাছ থেকে পেঁয়াজ কিনে নিয়েছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা। এতে উৎপাদন খরচের সিকিভাগও ওঠেনি।

এরই প্রতিবাদে সেখানে বস্তা বস্তা পেঁয়াজ রাস্তা ফেলে আগুন ধরিয়ে প্রতিবাদ করেছেন বহু কৃষক।

জানা গেছে, আগে নাসিকে পেঁয়াজের চাষ হলেও এখন গুজরাট, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, পাঞ্জাব ও পশ্চিমবঙ্গেও প্রচুর পেঁয়াজ চাষ হচ্ছে। ফলে দেশটিতে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত পেঁয়াজ উৎপাদন হচ্ছে।

এদিকে আগে নাসিক থেকে বাংলাদেশে লাখ লাখ টন পেঁয়াজ রফতানি হতো। তবে গত কয়েক বছর বাংলাদেশই উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রেখেছে ঢাকা। ফলস্বরূপ বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।

অন্যদিকে দেশের কৃষকদের পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে গত ১৬ মার্চ থেকে আমদানি বন্ধ করেছে বাংলাদেশ সরকার। এতে দেশের বাজারে দফায় দফায় বাড়ে পেঁয়াজের দাম। একপর্যায়ে তা ৮০ টাকার উপরে ওঠে। ফলে নাভিশ্বাস ক্রেতাদের।

তবে ঊর্ধ্বমুখী পেঁয়াজের লাগাম টেনে ধরতে পেঁয়াজ আমদানি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
আন্তর্জাতিক ডেস্ক