শিরোনাম :
জাতীয় কবি কাজী নজরুলের ১২০ তম জন্মবার্ষিকী আপনার জন্য আজকের রাশিফল পুত্রবধূর নির্যাতন সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিলেন বৃদ্ধ মোবাইল চার্জার মুখে দেয়ায় শিশুর মৃত্যু দেব-মিমি-নুসরাতদের জয় নিয়ে যা বললেন সাকিব বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ইফতার মাহফিল হবিগঞ্জে বজ্রপাতে ২ জনের মৃত্যু ভূমধ্যসাগর থেকে ১৪ বাংলাদেশিসহ ২৯০ অভিবাসী উদ্ধার যশোর জেলা পরিষদের ইফতার মাহফিল ব্র্যাক ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে ৯৬৮০ নিয়োগ ভারতে কোচিং সেন্টারে আগুন, ১৯ শিক্ষার্থীর মৃত্যু শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৩৮ রান সংগ্রহ দ. আফ্রিকার মোদির রাষ্ট্রে আগুন, নিহত ১৫ ২৬২ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে আফগানিস্তান নিষিদ্ধ ৫২ পণ্য বন্ধে ঝালকাঠিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ব্রিটিশের প্রথম মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন সাজিদ জাভিদ অভিযান চালিয়ে অপরিপক্ক ৫০ মণ আম ধ্বংস স্ত্রীকে নকল দিতে গিয়ে এএসআই কারাগারে হবিগঞ্জে পৃথক বজ্রপাতে ৩ জনের মৃত্যু

মাগুরায় নালিম চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে

নালিম চাষে

এস আলম তুহিন, মাগুরা : মাগুরায় গ্রীষ্মকালীন ফল নালিম চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। বাঙ্গির বিকল্প ফল হিসেবে নালিম মানুষের কাছে এটি জনপ্রিয়। বর্তমানে রোজায় ইফতারিতে অনেকেই নালিম খেয়ে থাকেন । নালিম খেলে শরীর ঠান্ডা ও সতেজ হয় । তাই অন্যান্য ফলের তুলনায় অনেকে নালিমকে বেছে নেন ।

ধান পাট বা অন্য ফসল আবাদের চেয়ে নালিম চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় জেলার কৃষকরা দিন দিন এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। এটি চাষের মাধ্যমে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। অল্প পুজি বিনিয়োগ করে অধিক ফসল এবং অর্থ ঘরে তুলতে পেরে কৃষকরাও খুশি।

সদর উপজেলার ইছাখাদা, হাজিপুর, হাজরাপুর, মির্জাপুর, মিঠাপুর, নড়িহাটিসহ আশপাশের অনেক গ্রামের কৃষকরা প্রতিবছর অধিক জমিতে নালিম চাষ করে থাকেন। বাঙ্গি জাতীয় এ ফল নালিমের বিঘা প্রতি ফলন হয় ৮-১০ হাজার পিস। কৃষকরা জানান, এ চাষে সার কীটনাশক তেমন লাগেনা বললেই চলে।

আরো পড়ুন>>>শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল ও বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি

সদরের ইছাখাদা গ্রামের আকরাম হোসেন জানান, আমি ৪ বিঘা জমিতে নালিম চাষ করেছি । এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় নালিম খুব ভালো হয়েছে । সার-বীজ ও শ্রমিক বাবদ এ বছর আমার প্রায় দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে । আমি আশা করছি এ বছর ৬-৭ লক্ষ টাকা অর্জন করতে পারব। বর্তমানে আমার ক্ষেত থেকে প্রতিদিন নালিম উত্তোলন হচ্ছে। এ নালিমগুলো ঢাকার যাত্রাবাড়ি, কাওরানবাজার, শিবচর, আমিনবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রেরন করছি।

মাগুরা সদর উপজেলার নড়িহাটি গ্রামের কৃষক সাকেন বিশ্বাস এ বছর ১৬ বিঘা জমিতে নালিম চাষ করেছেন। ১০ বিঘা জমি ৪ লাখ টাকায় লিজ নিয়েছেন তিনি। বাকি ৬ বিঘা জমি তার নিজের। নালিম ফল বিশেষ করে মাঘ মাসে মাটিতে বীজ লাগাতে হয়। প্রায় ৩ মাসের জীবনকাল থাকায় খুব অল্প সময়ে কৃষকরা এটি বিক্রির মাধ্যমে নগদ অর্থ ঘরে তুলতে পারেন। তিনি আরো বলেন,‘আমি প্রতিবছরই নালিম চাষ করে থাকি। অন্য ফসলের চেয়ে এ চাষে লাভ যেমন বেশি তেমনি খরচও কম। এ রমজান মাসে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রির জন্য পাঠানো হয় নালিম। ব্যাপারীরা জমি থেকেই নালিম ফল পাইকারী দরে কিনে নিয়ে যান। প্রতি ট্রাক নালিম ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আমার ১৬ বিঘা জমি থেকে ৮ লাখ টাকার বেশি বিক্রি করতে পারবো বলে আশা করছি।’

একই উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের অপর নালিম চাষি শেখ দিদার জানান, এ বছর তিনি ১০ বিঘা জমিতে নালিম চাষ করেছেন। ভালো দাম পাওয়ায় যা তিনি ব্যাপারীদের কাছে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন। তিনি আরো জানান, নালিম খুব লাভ জনক একটি চাষ। এটির মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে অধিক অর্থ ঘরে তোলা সম্ভব। যে কারণে কৃষকরা নালিম চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

মির্জাপুর গ্রামের সহিদ মুন্সি দেড় বিঘা জমিতে নালিম চাষ করেছেন। যাবতীয় খরচ বাদে এ মৌসুমে তিনি ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার নালিম বিক্রির আশা করছেন। বর্তমানে বাজারে প্রতি পিস নালিম ৫-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আরো পড়ুন>>>চিতলমারীতে গরমে ডাইরিয়ার প্রকোপ

মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানা গেছে, এবার সদরের হাজিপুর ও হাজরাপুর ইউনিয়নে বিভিন্ন গ্রামে ১১৪ হেক্টর জমিতে নালিমের চাষ হয়েছে। অন্যান্য ফসলের তুলনায় নালিম চাষে খরচ কম ও লাভজনক হওয়ায় অনেক কৃষক নালিম চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন । পাশাপাশি জেলার শ্রীপুর ও মহম্মদপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরা অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি নালিম চাষে অভ্যস্ত হচ্ছেন ।

স্বাআলো/এসই