শিরোনাম :
ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড সৌম্যর গাইবান্ধায় সনাতন ধর্মালম্বীদের ঐতিহ্যবাহী মেলা খুলনায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচির উদ্বোধন ভাগ্নের অকাল মৃত্যুতে এখনও বাকরুদ্ধ আন্দালিব পার্থ পিরোজপুরে নুসরাত জাহান রাফি হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন রোহিঙ্গারা যেন ভোটার হবার সুযোগ না পায়:ইসি সচিব শহীদ মসিয়ূর রহমানের ৪৮তম মৃত্যু বার্ষিকী পালিত আমতলীতে যুবকের আত্মহত্যা ববি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ছাত্র শিক্ষক আন্দোলন অব্যাহত যবিপ্রবির ঘটনায় চৌগাছায় ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ বাল্যবিয়ের অনুষ্ঠানে কাজিকে ৬ মাসের কারাদন্ড মাগুরায় ৩১ দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান ভারতের ট্রেলারে সলমান-ক্যাটের বাজিমাত (ভিডিও) প্রথমবার পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন যাচ্ছে কিম ফের ঢাবি অধিভূক্ত ৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের পাঁচ দাবি চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন এমডিকে সুপেয় পানির শরবত খাওয়াতে চায় জুরাইনবাসী ‘বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণ বাড়ছে’ ধানক্ষেত থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার প্রবাসীদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী যশোরে পুষ্টি সপ্তাহ উদ্বোধন একাত্তরের দুই যুদ্ধাপরাধীর রায় কাল আজকের খেলা ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে ১১ জনের প্রাণহানি কিডনি পরিষ্কার করে এই ৯ খাবার

বিএনপির ব্যর্থতার জন্য খালেদা জিয়া মুক্তি পাননি : ড. মোশাররফ

খালেদা জিয়া মুক্তি পাননি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দির এক বছর পূর্তির দিনে এসে বিএনপি নেতারা উপলব্ধি করেছেন, তাকে (খালেদা) মুক্ত করতে না পারা নেতাদের ব্যর্থতা।

আজ শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় এমন মন্তব্য করেন বিএনপি নেতারা।

গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের দণ্ড দেন আদালত। ওইদিনই তাকে পুরনো ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হাইকোর্টের আরেক রায়ে তার পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়। আর জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে সাত বছরের দণ্ড দেন আদালত। দুই মামলায় মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন বিএনপি নেত্রী। বৃহস্পতিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) তার কারাবন্দির এক বছর শেষ হয়েছে। এ উপলক্ষে এই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন থেকে শুরু ঢাকা মহানগরীর প্রত্যেক স্তরের নেতাদের কণ্ঠেই ছিল অনুতাপের সুর।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন,‘খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারায় আমাদের ব্যর্থতা রয়েছে। তবে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আর ঘুরে দাঁড়াতে হলে আমাদের করণীয় হচ্ছে-নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন করা। এবারের নির্বাচনে যারা প্রার্থী ছিলেন, তাদের সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি কেউ সেই দায়িত্ব পালন না করেন, তাহলে আগামীতে সেটা মনিটরিং করা হবে।’
তিনি আরও বলেন,‘সরকারের পক্ষে খালেদা জিয়াকে আর বেশি দিন আটকে রাখা সম্ভব হবে না। কথাটি এ কারণে বলছি, দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ আমাদের পক্ষে। আর এই কথাটি সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গোপন থাকেনি। তাই তারা (আওয়ামী লীগ) ২৯ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে ভোট করেছে, ৩০ তারিখ দিনে ভোট করার সাহস পায়নি।’

আরো পড়ুন>> ওবায়দুল কাদেরকে বিএনপিতে যোগ দেয়ার আহবান রিজভীর

নিজেদের নেতৃত্বের ব্যর্থতা স্বীকার করে দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এখানে সবাই আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত আছে। কিন্তু আমরা যারা নেতৃত্বে আছি, তারা সফল হতে পারিনি। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন,‘আজকে লজ্জায় মাথা হেট হয়ে যায়। আমরা এত বড় দল, হাজার হাজার নেতাকর্মী, কিন্তু সেই দলের নেত্রী আজকে এক বছর ধরে কারাগারে আছেন। এটা ভাবতেও চোখের পানি চলে আসে।’

তৃণমূল থেকে দলকে পুনর্গঠন করতে হবে বলে মনে করেন মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, ‘যারা খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছেন, তাদের সম্মান দিয়ে নেতৃত্বের কাতারে নিয়ে আসতে হবে। তরুণদেরও নেতৃত্বের জন্য এগিয়ে আসতে হবে। কারণ, আমরা যারা আছি, তারা আবারও আন্দোলন করে নির্বাচনের জন্য পাঁচ বছর অপেক্ষা করবো, সেটা সম্ভব হবে না।’

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, ‘এই নির্বাচন একটি জিনিস প্রমাণ করে দিয়েছে, জনপ্রিয়তাই যথেষ্ট নয়। সংগঠন ছাড়া জনপ্রিয়তা ধরে রাখা সম্ভব নয়। সুতরাং, আলোচনা করে আমাদের কোনও ভুল হয়ে থাকলে সেটা শুধরাতে হবে।’

দুটি লক্ষ্যে বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল উল্লেখ করে মওদুদ আহমদ বলেন, ‘এই দেশের মানুষ ভোট দিতে পারলে আমরা জয়লাভ করবো এবং সেই দিনেই আমাদের নেত্রীকে মুক্ত করতে পারবো- এটাই ছিল আমাদের নির্বাচনে যাওয়ার আশা। কিন্তু আমাদের দুটি আশাই নিরাশায় পরিণত হয়েছে।’
প্রতিবাদ সভায় সভাপতির বক্তব্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন,‘এক বছর হয়ে গেলেও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারা আমাদের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতা নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। কারণ, তিনি (খালেদা জিয়া) আমাদের দিকে তাকিয়ে আছেন।’

হরতাল চাইলেন আব্দুস সালাম

প্রতিবাদ সভায় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের প্রতি কঠোর আন্দোলন করার আহ্বান জানিছেন কয়েকজন সিনিয়র নেতা। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম বলেন,‘আমাদের হরতাল দিতে হবে। কঠোর আন্দোলনে যেতে হবে। কারণ, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সংগঠন বেঁচে থাকে। আন্দোলনের বাইরে গিয়ে সংগঠনকে বাঁচানো যাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুলকে বলছি—নির্বাচন গিয়েছেন, স্থায়ী কমিটির নেতাদের নিয়ে বসেন। আলোচনা করেন, আমরা কী করতে পেরেছে আর কী করতে পারিনি। বাইরে আলোচনার দরকার নাই। ঘরেই আলোচনা করুন। বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে বসেন। অনতিবিলম্বে বৈঠক ডেকে কঠোর কর্মসূচি দেন। ম্যাডাম খালেদা জিয়া কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দিতে নিষেধ করেছেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে বলেছেন, এটা বলে লাভ নেই।’

আব্দুস সালামের বক্তব্যের সঙ্গে মিল রেখে কর্মসূচি দেওয়ার আহ্বান জানান দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু ও অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খানও।

প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ।

স্বাআলো/এম