আজ বুধবার ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং ৮ ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ বসন্তকাল ১৩ জমাদিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী
শিরোনাম :
ইতিহাস ঐতিহ্যে ভরপুর ঝিনাইদাহের বারোবাজার ইউসিবিএল ব্যাংকের ম্যানেজারের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রাজ্জাকের পদত্যাগকে স্বাগত জানালেন ড. কামাল ৩১ শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় দুই ডাক্তার বরখাস্ত মণিরামপুরে ভাইয়ের হাতে বোন খুন জেনে নিন, আনারস আর দুধ একসাথে খেলে কি হয় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ১৬টি অঙ্গরাজ্যের মামলা সড়ক দুর্ঘটনায় ডিশ ব্যবসায়ী নিহত নদী আর গহীন অরণ্যের মাঝে ঘুরে আসুন সুন্দরবন চুয়াডাঙ্গায় সোলার লাইট স্থাপন কার্যক্রম উদ্বোধন পুলিশ হেফাজতে সালমান মুক্তাদির জিজ্ঞাসাবাদ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞানের ২০ শতাংশ অগ্রাধিকার নকলের সুযোগ না দেয়ায় শিক্ষিকাকে জুতাপেটা স্মার্ট কার্ড পেয়েছেন, জেনে নিন কি কি সুবিধা পাবেন চৌগাছায় আ.লীগ নেতা হত্যায় ১৭ জনের নামে মামলা মুক্তির অপেক্ষায় ‘বিউটি সার্কাস’: জয়া ও ফেরদৌস ১৫ মার্চ থেকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু কাশিয়ানীতে কোচিং সেন্টারে অভিযান: পোড়ানো  হলো বেঞ্চ বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পারভীন হকের শ্রদ্ধা যেই ১০টি উক্তি বদলে দিবে তোমার জীবন ছোট দোয়ার গুরুত্ব অনেক বেশি ইতিহাস বিকৃতি করায় সম্পাদককে হাইকোর্টে তলব দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনী মাঠে বিএনপির তিন নেতা বৃষ্টি হলেই রাস্তা ছেঁড়া কাঁথার মত হয় কেন : কাদের যশোরে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী বিপুলের আ.লীগ নেতাদের সাথে মতবিনিময়

আমতলীতে  নদ-নদী  মৃত প্রায়: চাষাবাদ  হুমকির মুখে 

বরগুনার আমতলী  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পানির

জেলা প্রতিনিধি, বরগুনা: বরগুনার আমতলী  উপজেলার বিভিন্ন  ইউনিয়নে পানির অভাবে শুকিয়ে যাচ্ছে  ২ শতাধিক নদী ও খাল । অসংখ্যা নদ-নদী  ও খালে  নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অবৈধ দখল, দূষণ আর ভরাটের কারণে নদী ও খালগুলো একেবারেই সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে নদী ও খাল কেন্দ্রীক খেটে খাওয়া মানুষ এখন বেকার হয়ে পড়েছেন।

এসব এলাকার কৃষকরা পানির অভাবে ইরি বোরো চাষ করতে পারছেনা, র্বষা মৌসুমে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। উপজেলার  গোছখালী নদী, কুকুয়া নদী, হলদিয়া জলেখার খাল, কাদির খাঁর খাল, ছলেমানের খাল, মল্লিক বাড়ীর খাল, রামজীর খাল,  চাওড়ার কালী বাড়ী খাল, আঠারগাছিয়ার আমতলার খাল , হলদিয়ার জিনবুনিয়ার খাল ,আমতলী সদর ইউপির মাইঠার খাল,  আড়পাঙ্গাশিয়ার গোলবুনিয়াখাল, পূর্বচিলা হাসানিয়া মাদ্রাসার খালসহ অসংখ্যাখাল ।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণ  আমতলী  উপজেলার  মধ্য দিয়ে প্রবাহিত  ২ শতাধিক  নদনদী ও খাল , জলাশয়, পলি জমে ক্রমেই ভরাট হয়ে গেছে। তা ছাড়া  খাল ও বিলের মধ্য দিয়ে অপরিকল্পিত সড়ক ও ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ এবং নদী  খাল দখল করে বসতি ও দোকানপাট স্থাপন করায় নদীগুলো খাল গুলো  হয়ে পড়েছে সঙ্কুচিত।

উপজেলার আওতাধীন রামনাবাদ ও পায়রা  নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া খালগুলো ৭টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মধ্যে দিয়ে শাখা-প্রশাখা ছাড়িয়ে প্রবাহিত হতো। খালগুলো প্রবাহমান থাকায় সহজেই পণ্য বহনের নৌকা, ট্রলারসহ অন্যান্য নৌযান যাতায়াত করত।  সারা বছর খালে কানায় কানায় পানিতে পূর্ণ থাকত। বছর জুড়ে  খালের মাছ ধরে উপজেলার ৭ টি ইউনিয়নের জেলে পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত। বর্ষাকালে খালের পানি উপচে পলি মাটি ফসলি জমিতে মিশে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেত। শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা তাদের ক্ষেতে সহজেই খাল থেকে সেচ দিতে পারত। বর্তমানে এখন আর সেই অবস্থা নেই।দক্ষিণাঞ্চলের আমতলী  উপজেলার  হলদিয়া,রামজী,সোনাউঠা , গাজিপুর ও অফিস বাজারে নৌকা ও ট্রলার যোগে পণ্য পরিবহনের জন্য খাল দিয়ে সহজেই যাতায়াত করা যেত।

আরো পড়ুন>>> বরগুনায় সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করায় ডিবি পুলিশ ক্লোজড

বর্তমানে খাল দিয়ে নৌকা চলে না, পড়ে না জমিতে পলিমাটি। ফলে উপজেলার হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলেছে।  ফসল উৎপাদনের জন্য কৃষি জমিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও কৃষকরা কোন ভালো ফলন পাচ্ছে না।

আমতলী  সরকারি  কলেজের সাবেক সহকারী অধ্যাপক আবুল হোসেন বিশ্বাস জানান, ২০-২৫ বছর পূর্বে নদী ও খাল দিয়ে  বছরজুড়েই নৌ -চলাচল করত, কিন্তু বছরের পর বছর পলি জমে এসব নদী খাল বিল  ভরাট হয়ে গেছে।   নদীপথে নৌকায় কম খরচে সহজলভ্য পরিবহন সুবিধা ভোগ করলেও এখন আর ওই সুবিধা নাই । এখন নদী ও খাল  মরে যাওয়ার সাথে সাথে এলাকার প্রসিদ্ধ নৌবন্দরগুলোও মরে গেছে।সাথে সাথে মরেছেন নৌকার মাঝিমালা ও জেলেরা। একই সাথে দুর্ভোগে পড়েছেন নদী এলাকার কৃষকসহ নদীপাড়ের লাখো মানুষ। এখন তারা সড়কপথে বেশি খরচে পণ্য আনানেয়া করেন। এতে পরিবহন খরচ বেশি পড়ায় পণ্যের দামও বেশি, যার প্রভাব গিয়ে পড়েছে ক্রেতাদের  ওপর।  ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নামতে নামতে এমন অবস্থায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, এখন নদী ও খাল গুলোতে চার মাসের বেশি পানি থাকে না।

স্থানীয় বেসরকারি সংস্থা এন এসএসর নির্বাহী পরিচালক শাহাবুদ্দিন পান্না বলেন ,  অবৈধ ভাবে দেয়া বন্দোবস্তগুলো বাতিল করে খাল গুলো খনন করলে প্রান্তিক কৃষক ও জেলেরা খালের পানি ব্যবহার করে রবিশস্যসহ ফসল উৎপাদন করতে পারবে।  যা দেশের অর্তনীতিতে ব্যাপক ভ’মিকা রাখবে।

আমতলী উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি কমলেশ মজুমদার বলেন,  অনেকগুলো বন্ধোবস্ত কেস সরেজমিন তদন্ত করে অনিয়ম পেয়েছি। সে গুলি বাতিলের জন্য কার্যক্রম প্রক্রিয়াদিন।

আমতলী উপজেলা খাসজমি বন্দোবস্ত কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সরোয়ার হোসেন বলেন মৃত খাল ও নদী গুলো খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে এনে  কৃষি  ও  জেলেদের জন্য  উপযোগী  করা হবে। এবং যে বন্ধোবস্ত কেস গুলোতে অনিয়ম পাওয়া যাবে বাতিলকরে খনন করা হবে।

স্বাআলো/আরবিএ