শিরোনাম :
নুসরাত হত্যায় পুলিশের তদন্ত শেষ : ৭দিনের মধ্যে  রিপোর্ট তিনদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাল ব্রুনাই যাচ্ছেন রবিবার পবিত্র শবেবরাত ১৪ দলের আলোচনা সভা আগামী সোমবার শপথ নেয়ায় মোকাব্বির খানকে  শোকজ এক দশক পর যশোর বিএনপির কমিটি গঠন ভাঙ্গুলী এলাকায় ২৫ বছর পর সংসদ সদস্যের পরিদর্শন যুব ইউনিয়নের গাইবান্ধা জেলা শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত সোনাগাজী আ.লীগ সভাপতি রুহুল পাঁচদিনের রিমান্ডে ‘বাগেরহাটবাসীকে শিক্ষিত, মার্জিত, মেধাবী ও দক্ষ হতে হবে’ নুসরাত হত্যার বিচার দাবিতে সোনালী স্বপ্নের প্রতিবাদ সভা পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি শান্তির ধর্ম ইসলাম : প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু-প্রধানমন্ত্রীর ছবি অবমাননার প্রতিবাদকারী আট ছাত্রলীগ নেতা বহিস্কার চাকরির বয়স ৩৫ করার দাবিতে সমাবেশ, আটক ৭ শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে ১২০ স্বর্ণবার জব্দ মেয়ে-জামাইকে দাওয়াত দিয়ে বাড়ি ফেরা হলো না হাতেম আলীর টাঙ্গাইলে ভুয়া চিকিৎসক আটক শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তি ও মুক্তিযোদ্ধার সম্মাননা প্রদান নলছিটিতে প্রতিপক্ষের হামলায় ইউপি সদস্যসহ আহত ৬ টোল ও সড়কে চাঁদা বন্ধের ঘোষণা দিলেন আমতলীর পৌরমেয়র তিস্তার ভাঙনে সুন্দরগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকা বিলিন হচ্ছে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহের সমাপনী `কুয়েটের গবেষণা আগামীর বাংলাদেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ জঙ্গল থেকে নবজাতক কন্যাশিশু উদ্ধার

রংপুরের শ্যামা সুন্দরী খালের কুৎসিত চেহারা

শ্যামা সুন্দরী খাল

রংপুর ব্যুরো : রংপুর নগরীর ভেতর দিয়ে প্রবাহিত শ্যামা সুন্দরী খাল আবর্জনার স্তুপে ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে বন্ধ হয়ে গেছে খালের পানি প্রবাহ। এই খাল এখন মশার নিরাপদ প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে নগরবাসীর। বিগত সময়ে সংস্কারের নামে ২৫ কোটি টাকা লোপাট হলেও তা নিয়ে প্রশাসন সম্পূর্ণ নীরব।

কথিত রয়েছে এক সময়ে রংপুরের ম্যারেরিয়া, ডায়রিয়া, কলেরা ও বসন্ত রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি ছিল। তাই অনেকে বলতেন ‘যেই যায় রঙ্গপুর/সেই যায় যমপুর’। তাই এসব রোগভোগের কারণে অনেকের অকাল মৃত্যু হতো। ডিমলার রাজবধূ ছিলেন চৌধুরানী শ্যামাসুন্দরী দেবী। তিনি ম্যালেরিয়া রোগে অকাল মৃত্যুবরণ করেন। তার এই মৃত্যুশোকে পুত্র জানকীবল্লভ সেন মাতার স্মরণে এই খাল খনন করেন। এটি নগরীর পশ্চিম প্রান্ত কেল্লাবন্দ ঘাঘট নদী থেকে পূর্বপ্রান্তে ঘাঘট নদীর মাহিগঞ্জ পর্যন্ত নগরীর পানি নিষ্কাশসন, মশা-মাছির উপদ্রপ বন্ধ ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য  ১৮৯০ থেকে ১৮৯৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ আট বছর এই খাল খনন করা হয়। সে সময় থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত রং সৌন্দর্য বর্ধনে শ্যামা সুন্দরী খালের অন্যতম ভূমিকায় ছিল।

এই খাল খননের ফলক স্থাপন  করা হয় রংপুর নগরীর কাচারি বাজারে। ওই ফলকে লেখা আছে ‘পীড়ার আকর ভূমি এই রঙ্গপুর/প্রণালী কাটিয়া তাহা করিবারে দূর/মাতা শ্যামাসুন্দরীর স্মরণের তরে/জানকীবল্লভ সূত এই কীর্ত্তি করে।’

বর্তমানে শ্যামাসুন্দরী খালের জীর্ণদশা, ময়লা, আবর্জনা ও দূষণে কালো হয়ে গেছে পানি। অন্যদিকে এই খাল সংস্কারের নামে প্রায় ২৫ কোটি টাকা লোপাট করার অভিযোগ ওঠেছে বিগত পৌর চেয়ারম্যান ও সিটি কর্পোরেশন মেয়রের বিরুদ্ধে। নগর দূষণমুক্ত রাখতে খননকৃত এই শ্যামা সুন্দরী খাল এখন নগর দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরো পড়ুন >>>সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের কঠোর হুশিয়ারী

দেখা গেছে, শ্যামা সুন্দরী খাল ঘিরে নির্মিত কেরামতিয়া মসজিদ সংলগ্ন পার্কটিতে একসময় সবুজের সমারোহ দেখা গেলেও এখন তা বিবর্ণ রূপ ধারণ করেছে। পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়া ও খালটির সঙ্গে আশপাশের বাড়ি-ঘরের পয়ঃনিষ্কাশনের সংযোগ থাকায় দুর্গন্ধের কারণে পার্কের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

নথিপত্রে দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ১২ কিলোমিটার শ্যামাসুন্দরী খাল সংস্কার, খালের ওপর সেতু নির্মাণ ও খননের জন্য তৎকালীন রংপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান একেএম আব্দুর রউফ মানিক ২৫ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করেন। ২৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা প্রকল্পিত মূল্যের কাজ ৪টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হয়। ওই সময়ে খালের কিছু অংশের দুই পাশে বোল্ডার বসানো, খালের দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণ এবং খাল খনন ছাড়াই ৩টি সেতু নির্মাণ করেন। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মনীতি উপেক্ষা করে কাজ সম্পূর্ণ না করেই বিল তোলেন।

নগর ভবনের একটি সূত্র বলছে, দরপত্র অনুযায়ী শ্যামা সুন্দরী খালের ১২ কিলোমিটার জুড়ে দুই পাশে বোল্ডার বসানো, খালের দুই পাশে ফুটপাত নির্মাণ এবং খালের উপর ৩টি সেতু নির্মাণ করার কথা ছিল। কিন্তু সদর হাসপাতালের পেছন থেকে গোমস্তপাড়া হয়ে গ্রান্ড হোটেল মোড় পর্যন্ত প্রায় ৫ কোটি টাকার তিন কিলোমিটারে কোনো কাজই হয়নি। এ টাকা কিভাবে ব্যয় করা হয়েছে তার কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তৎকালীন এলজিইডি প্রকৌশলীরা। বিষয়টি ধাপাচাপা দিতে প্রকল্পটি রংপুর পৌরসভা থেকে রংপুর এলজিইডিতে(স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) কে সার্বিক দায়িত্ব দেয়া হয়। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে সে সময়ের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব এর নামে কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ টাকা আত্মসাৎ করেন।

অবৈধভাবে খাল দখল, স্থাপনা নির্মাণ প্রতিনিয়ত বাড়লেও কর্তৃপক্ষ নীরব। আগে শ্যামা সুন্দরী খালের প্রস্থ ছিল স্থান ভেদে ৬০-১০০ ফুটের বেশি। কিন্তু এখন তা সর্বোচ্চ ৫২ ফুট। সংস্কারের সময় অবৈধ দখলমুক্ত না করায় এ খাল নালায় পরিণত হয়েছে। তারপরও যদি খালটি নির্দিষ্ট নিয়মে খনন করা হতো, তাহলে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকত।

আরো পড়ুন >>>ঠাকুরগাঁওয়ে বিজিবির সাথে সংঘর্ষে নিহত ৩

রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, শ্যামা সুন্দরী খাল নিয়ে আমরা ৪শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প সরকারের কাছে পাঠিয়েছি। এতে খালের ওপরে ব্রিজ, পানির প্রবাহ ধরে রাখা, এর দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এসব বাস্তবায়ন হলে নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।

স্বাআলো/এইসএম